ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ ৭০ অভিবাসন প্রত্যাশী

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২৫

ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ ৭০ অভিবাসন প্রত্যাশী

লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি নৌকা ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। নৌকায় ছিলেন হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ মোট প্রায় ৭০ জন অভিবাসন প্রত্যাশী।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা নিখোঁজদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

নিখোঁজ হবিগঞ্জবাসীর বেশিরভাগই জেলার উমেদনগর, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা তলাবপাড়া মহল্লার আলফাজ মিয়া রনি (২১), মোজাক্কির আহমেদ (২১), সিয়াম জমাদার (২১) ও মিজান আহমেদ (২০) নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন।

এছাড়া উমেদনগর, আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমভাগ ও জলসুখা, বানিয়াচং উপজেলার তারাসই গ্রামের আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ আলফাজ মিয়া রনির বড় ভাই মনির মিয়া জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর চারটি নৌকা লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এর মধ্যে একটি নৌকায় হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ প্রায় ৭০ জন ছিলেন, যা এখনও নিখোঁজ। বাকি তিনটি নৌকা ইতালিতে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, প্রবাসী হাসান আশরাফের মাধ্যমে নিখোঁজদের প্রত্যেককে ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়েছিল।

রনি ও মোজাক্কিরসহ অন্যদের স্বজনরা জানান, আশরাফ তাদের কাছ থেকে মোট ৩৬ লাখ টাকা নিয়ে লিবিয়ায় পাঠানোর পর নৌকায় তুলে দেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে নিখোঁজদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, এবং আশরাফের মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের আরও কিছু পরিবারও আশরাফের মাধ্যমে ইতালি গেছেন।

ফ্রান্স প্রবাসী সৈকত আহমেদ জানান, আশরাফ গত ছয় মাসে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে ইতালি পাঠিয়েছেন এবং এতে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

ইতালি প্রবাসী আবুল খায়েরের দাবি, নৌকাটিতে মাফিয়া চক্র গুলি চালিয়েছে এবং কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় লিবিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিখোঁজদের স্বজনরা দ্রুত তাদের সনাক্ত ও উদ্ধার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট