|
প্রকাশিত: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ফেরার পথে এক তরুণীকে ১০ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযান চালিয়ে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত নাঈম উদ্দিন (২২) উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদপূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আবদুর রহমান ডালুর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা ওই তরুণী প্রায় ৯ মাস আগে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি হায়দ্রাবাদে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামে এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় তিনি বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে বিএসএফের হাতে আটক হন। মানবিক কারণে বিএসএফ তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। সীমান্ত অতিক্রমের পর স্থানীয় শানুর আহমদ, নাঈম উদ্দিন ও কাওছারসহ ছয় যুবক তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে। পরে শানুরের বাড়িতে আটকে রেখে টানা ১০ দিন তারা তরুণীটিকে পাশবিক নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর জেলা সদরের ঘাজির খামার ইউনিয়নের শালচুড়া এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী ২০ আগস্ট ভারত থেকে দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
এ সময় স্থানীয় একটি অপরাধী চক্র তাকে একা পেয়ে আটক করে ফেলে। এরপর চক্রের সদস্যরা ওই নারীর বোনের মুঠোফোনে কল করে তাকে জিম্মি করার কথা জানায় এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক দফায় বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হলেও তাকে মুক্তি না দিয়ে নির্যাতন চালিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, নাঈম ও কাওসারসহ চক্রের কয়েকজন মিলে তাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রেখে ক্রমাগত নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, একটি সোনার চেইন এবং একটি রুপার চেইনসহ মূল্যবান সব মালামাল ছিনিয়ে নেয় অপরাধীরা।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনের সহায়তায় ওই তরুণী বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কানাইঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম উদ্দিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সিলেটের এই দনা সীমান্ত দেশের রাজনৈতিক ও নানা অপরাধমূলক প্রেক্ষাপটে বারবার আলোচনায় এসেছে। এর আগে ভারত পালানোর সময় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মানিক এই সীমান্ত থেকেই আটক হয়েছিলেন। এছাড়া সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরকেও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় এই দোনা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D