পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর : ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ আজ

প্রকাশিত: ১:২৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর : ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ আজ

রক্তাক্ত পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত সেই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিতে আজ পুরো জাতি শোকাতুর। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ বছর সরকারি সিদ্ধান্তে দিবসটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

কী ঘটেছিল?

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা। পিলখানা দরবার হলে বার্ষিক দরবার চলাকালে বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বক্তব্যের মাঝেই অতর্কিত হামলা চালায় একদল বিদ্রোহী সৈনিক। শুরু হয় ইতিহাসের নৃশংসতম নারকীয় তাণ্ডব। বিডিআরের বিদ্রোহী সদস্যরা তৎকালীন ডিজি ও ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করে। লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করার মাধ্যমে পুরো পিলখানায় এক বীভৎস পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের অবসান ঘটলেও পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ভেতরে গণকবরের সন্ধান মেলে, যেখানে ডিজি শাকিল আহমেদ ও তাঁর স্ত্রীসহ অসংখ্য কর্মকর্তার লাশ পাওয়া যায়।

তদন্ত কমিশনের নতুন পর্যবেক্ষণ

বিডিআর বিদ্রোহের দীর্ঘ ১৫ বছর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ সম্প্রতি তাদের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বেশ কিছু মূল কারণ উল্লেখ করেছেন:

  • অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ: বিডিআর সদস্যদের মধ্যে ‘ডাল-ভাত’ কর্মসূচি এবং বিডিআর শপের বাড়তি ডিউটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছিল।

  • সেনাবাহিনী বিমুখতা: কিছু সদস্য যেকোনো ভাবেই হোক বিডিআরে সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব চাচ্ছিলেন না।

  • গভীর ষড়যন্ত্র: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকার তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে এই ষড়যন্ত্রের সুযোগ নিয়েছিল। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা।

আইনি প্রক্রিয়ার হালচাল

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৩ সালে নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৭ সালে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অসংখ্য আসামিকে যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ঘটনার পুনঃতদন্ত শুরু করেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ২৫০ জন বিডিআর জওয়ানকে জামিন দেওয়া হয় এবং ১৭৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আজকের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

শহীদদের স্মরণে আজ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে:

  • শ্রদ্ধা নিবেদন: সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিজিবি মহাপরিচালক শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ: বিকেলে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

  • দোয়া মাহফিল: বিজিবি সদর দপ্তরসহ সকল ইউনিটে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

বর্বর সেই ঘটনার ক্ষত এখনো প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের হৃদয়ে সজীব। পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রকৃত বিচার এবং নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি আজও জোরালো।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট