মুহুর্মুহু গুলিতে প্রকম্পিত শিবগঞ্জের ‘জঙ্গি আস্তানা’, ফের অভিযান শুরু

প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৭

মুহুর্মুহু গুলিতে প্রকম্পিত শিবগঞ্জের ‘জঙ্গি আস্তানা’, ফের অভিযান শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার সকালে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।

উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহিনী শিবনগর গ্রামের বাড়িটিতে সকালে ফের পুলিশের বিশেষায়িত দল সোয়াতের ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ অভিযান শুরু হয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাত নয়টার দিকে ‘ইগল হান্ট’ নামের এই অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ সকালে আবার অভিযান শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, বাড়িটি থেকে রাতে ও ভোরে কয়েক দফা গুলির ভেসে আসে। সকাল নয়টার পর সেখান থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ আসে।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বুধবার ভোর থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখেন জেলা পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বুধবার ভোর থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তা বজায় থাকবে বলে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা থেকে যাওয়া সোয়াত সদস্যরা পৌনে পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাড়ে ৬টার দিকে সোয়াট অভিযান শুরু করে। এ সময় মুহুর্মুহু গুলি আর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাত নয়টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ ভোরে ফের অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।

এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জানান, ‘এখানে আবু নামের একজন রয়েছেন। তিনি এখানে মুদির ব্যবসা করলেও, ভেতরে ভেতরে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা আছে। আরো কয়েকজনের এখানে আসা যাওয়া থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ বুধবার সকালে যখন আমরা এখানে ঢুকতে যাই, তখন আমাদের উপর গুলি করা হয়। এখন সোয়াত টিম এসেছে, তারা অভিযান শুরু করেছে।’

বাড়ির বাসিন্দাদের সম্পর্কে তিনি জানান, আবুর সঙ্গে তার স্ত্রী আছে। আর কেউ কেউ বলছেন একটি বাচ্চা আছে, আবার কেউ কেউ বলছেন, তাদের সঙ্গে দুইটি বাচ্চা রয়েছে।

ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি কয়েকটি বাড়ি পরেই। তিনি বলছেন, বাড়িটির বাসিন্দা আবু এই গ্রামেরই বাসিন্দা, ছোট বেলা থেকেই চেনেন। তিনি বাজারে মসলার ব্যবসা করেন।

‘কয়েকমাস আগে গ্রামের আরেকজনের তৈরি করা এই বাড়িটিতে আবু তার পরিবার নিয়ে থাকতে শুরু করে। তবে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই’, বলছিলেন আনোয়ার হোসেন।

এই নিয়ে গত দেড় মাসে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ১০টি বাড়িতে অভিযান চালালো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় অভিযানে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮জন নিহত হয়েছে। আর গত একবছরে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।

  •