২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬
‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে ৫ জানুয়ারিতে ঢাকায় দুটি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই দিন ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সারাদেশে কালো পতাকা উত্তোলন ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে দেশের প্রধান বিরেধী দল বিএনপি। ফলে ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে ফের রাজনীতিতে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। দুটি প্রধান দল পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় আবারো দেশে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে এ সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে তাদের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে ৫ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আয়োজনে ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে সমাবেশ দুটি অনুষ্ঠিত হবে’।
এদিকে, রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করার জন্য ৫ জানুয়ারি সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন এবং ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার করার কথা বলেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।
সমাবেশের অনুমতির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দেয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী নির্বাচিত হন। আওয়ামী মহাজোটের ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার পর ঐদিন মাত্র ১৪৩টি আসনের বিপরীতে নামমাত্র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যাতে প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি জেপি (মঞ্জু), জাসদ (ইনু) এবং ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীরাই ছিলেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।
ফলে বিরোধীদের দৃষ্টিতে ৫ জানুয়ারির প্রহসনের ভোটে অর্ধেকেরও বেশি আসনে নজিরবিহীন নির্বাচিত হয়ে নিজেদেরই হাসির পাত্রে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ। তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কের দিন তথা ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা। অন্যদিকে এদিনকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা।
আর এ দিন পালন উপলক্ষে গেল ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দুই শক্তির পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণে বেশ কয়েকদিন দেশ অচল হয়ে পড়েছিল। যদিও ২০১৬ সালে এমনটি লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে ফের রাজনীতিতে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। দুটি প্রধান দল পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় আবারো দেশে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। আবার অনেকে বলছেন, দুই শক্তিই রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই এমন কর্মসূচি নিয়ে থাকতে পারে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D