রাষ্ট্রপতি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই হবে ইসি : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১:১৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৬

Manual4 Ad Code

সম্প্রতি বিএনপি’র নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি আলোচনা করবেন, তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই হবে নির্বাচন কমিশন। আমরা  মেনে নেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিয়েছেন। বিএনপি তাদের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা তাদের কথা বলেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আলোচনা করবেন। আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। তিনি (রাষ্ট্রপতি) যেভাবে চাইবেন, নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। আমরা সেটা মেনে নেব।

বৃহস্পতিবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

Manual3 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ দেখি বিএনপি ভোট নিয়ে, নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলে। নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠন হবে, নির্বাচন কীভাবে হবে তা নিয়ে খালেদা জিয়া পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, আমরা বিএনপি’র হাঁ, না ভোট দেখেছি। মিরপুর, মাগুরা, ঢাকা-১০ উপ-নির্বাচন দেখেছি। এমনকি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেখেছি, ওই নির্বাচনের ফলও আমাদের দেখা আছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট চুরি করেছিল। এজন্য জনগণ তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে, তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, পদত্যাগ করতে হয়েছে।

Manual7 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ও পরে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ হত্যা করেছে। এমন কোনো কিছু নেই যা তাদের আক্রমণ থেকে বাদ গেছে। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। জাতির কাছে এজন্য খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাইতে হবে।

তিনি বলেন, জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ পুড়িয়ে মারার যে মামলাগুলো হয়েছে সেই আসামিদের দ্রুত যেন শাস্তি হয় এটা আমরা চাইব। কারণ খুনি সন্ত্রাসীদের স্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।

Manual2 Ad Code

বিমানের ত্রুটি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একই কোম্পানির ৬ হাজার বিমান চলছে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। ক্রু ঢিলা হয়ে যাওয়ার ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়। এটি মানুষের সৃষ্টি। এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। এটা তাদের সিদ্ধান্ত ছিলো। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে-একটা দলের নেতা যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয় সে খেসারত তাদেরকেই দিতে হয়। তারা নির্বাচনে আসেনি এটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। তার জন্য দেশবাসী কেন খেসারত দিবে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অথচ তারা কি করলো? নির্বাচন ঠেকানোর নামে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ কিভাবে জ্বালাও-পোড়াও অগ্নিসন্ত্রাস। জীবন্ত মানুষকে তারা পুড়িয়ে মেরেছে। হাজার হাজার গাড়ি-ট্রাক সব পুড়িয়ে দিয়েছে। লঞ্চ-ইস্টিমার-রেল কোন কিছু তাদের আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি।

তিনি বলেন, ‘জীবন্ত মানুষগুলিকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে আন্দোলন খেলা সে খেলেছে। এই যে এতগুলো মানুষ তারা পোড়ালো। এতগুলো মানুষের জীবন নিলো। যারা বেচে আছে কি মানবেতর জীবন-যাপন তারা করছে। এ ব্যাপারে জাতির কাছে খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাইতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেন সে এই ভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মারলো? তিনি হুকুম দিয়েছে। আর ঘরে বসে ছিলেন। তাদের লোকগুলি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমি চাইবো এই মামলাগুলোর দ্রুত যেন শাস্তি হয় যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে।’

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে, যা কখনো আমাদের কাম্য না। আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। হত্যা-ক্যু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ হয় সেজন্য আমরা সংবিধান সংশোধন করে গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯০ ভাগ প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। অব-কাঠামো উন্নয়ন ব্যাপক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্রর হার ২২ ভাগে নামিয়ে এনেছি। হতদারিদ্র্যের হার ১২ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আমরা তা ১৪/১৫ ও হতদারিদ্র্যের হার ৭/৮ ভাগের মধ্যে নিয়ে আসবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় ছিলো ওই বিদেশে হাত পেতে পেতে চলা-এটাই যেন ছিলো তাদের একটা নীতি। আমরা ভিক্ষা চেয়ে চলবো না, নিজের পায়ে দাঁড়াবো। আত্মনির্ভরশীল হবো। আমরা গণমুখী কর্মসূচি নিয়েছি, জনগণের কল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। নিজেকে সপে দিয়েছি জনগণের কল্যাণে। জনগণের স্বার্থে।’

Manual6 Ad Code

তিনি বলেন, ‘এখানে আমি নিজের জীবনে যত ঘাত-প্রতিঘাত যাই আসুক না কেন সেই বিমানের স্ক্রু ঢিলা করুক, সেখানে ডেবরি ফেলে দিয়ে হত্যা করা চেষ্টা করুক। যাই আসুক। গ্রেনেড হামলা, গুলি অনেক কিছুই তো আমাকে সামনা-সামনি করতে হয়েছে। কিন্তু কখনো নিজের জীবনের মায়া করিনি। চিন্তা করিনি। মানুষের জন্য কতটুকু কাজ করতে পারি সেই চিন্তাই করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী ছোট্ট একটা কামরা দিতে পারলে আমরা দিবো। একটি টিনের ঘর হলেও আমরা তাদেরকে দিবো। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতির কেন্দ্রই বানানো হয়েছিলো। যারাই দুর্নীতি করুক তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে, এখানে সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code