ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভেজাল উৎপাদন, ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২৬

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভেজাল উৎপাদন, ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

আইসক্রিম থেকে প্রসাধনী- জনপ্রিয় চার প্রতিষ্ঠানের আটটি পণ্যে মিলেছে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কোনো পণ্যে মিলেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, কোনো পণ্যে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, আবার কোনো পণ্যে পাওয়া গেছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের ঘাটতি।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ৪টি প্রতিষ্ঠানের ৮ ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। মাত্রাতিরিক্ত সংরক্ষণকারী পদার্থ, মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতিসহ মানমাত্রার ব্যত্যয় ঘটায় এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।

সোমবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারে (ব্যাচ নম্বর-এফজিএমপি২০০জি০৪২৬) মাত্রাতিরিক্ত সংরক্ষণকারী পদার্থ পাওয়া গেছে। কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকোলেট (ব্যাচ নম্বর-২৬০৫০১০১এ) আইসক্রিমে মোট দুগ্ধজাত কঠিন পদার্থ নন-ফ্যাট বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে।

এছাড়া অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন (দুধজাত ত্বকের লোশন) (ব্যাচ নম্বর-২৯৬১১০৪এ) এবং অ্যালোভেরা স্কিন লোশন (ব্যাচ নম্বর-২৯৬১২০৪এ), অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের মোরিংগা+মাচা ফেসওয়াশ (মুখ পরিষ্কারক) (ব্যাচ নম্বর-২৯৫১৪০৪এ), ফোমিং মিল্ক ও তুলসী (ব্যাচ নম্বর-২৯৫১২০৪এ) এবং লাবণ্য ব্র্যান্ডের অ্যালোভেরা ধরনের শ্যাম্পুতে (ব্যাচ নম্বর-২৯২১৩০৪এ) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়াও ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের আম ও কমলা ধরনের কোমল পানীয়ের গুঁড়ায় (ব্যাচ নম্বর-১৩৩) বাংলাদেশ মানমাত্রার চেয়ে কম পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন নতুন করে ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ক্রেতাদের বিশেষভাবে সতর্ক করে বিএসটিআই-এর মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক জানান, যে কোনো পণ্য কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআই লোগো, লাইসেন্স নাম্বার, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ভালো করে দেখে নিতে হবে। পণ্যের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ বা জালিয়াতির প্রমাণ পেলে দ্রুত বিএসটিআই কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট