২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৯
ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভূস্বর্গ খ্যাত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে পরবর্তীতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের এসব কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বেশ কিছু আবেদন করা হয়। মূলত এসবের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (২৮ আগস্ট) একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ বিভিন্ন সংগঠন জম্মু ও কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সকল পদক্ষেপকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে দেশটির উচ্চ আদালতে বেশ কয়েকটি আবেদন করে। একই সঙ্গে স্থানীয় গণমাধ্যম ‘দ্য কাশ্মীর টাইমসে’র কার্যনির্বাহী সম্পাদককে গণমাধ্যমের উপর থেকে প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়েও আবেদন জানানো হয়। তাছাড়া বাম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি রাজ্যটিতে আটক থাকা দলীয় নেতা মহম্মদ ইউসুফ তারিগামির মুক্তির দাবিতেও আদালতে আবেদন করেছেন।
ভারতীয় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে মোট তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বেঞ্চে আজ এই আবেদনগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি এস এ বোবদ এবং এস আবদুল নাজির।
কাশ্মীর ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা পিটিশনের যুক্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ভারতের সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে; যার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণই অবৈধ।
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কনফারেন্সের করা আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে এ জাতীয় নির্দেশনা কেবল তখনই জারি করা সম্ভব যখন সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভারও সম্মতি থাকবে। কেননা ১৯৫১ সালে এই রাজ্যের বিধানসভাতেই সম্মতি ক্রমে সংবিধানের ধারাটি প্রয়োগ করা হয়। যে কারণে ইস্যুটি রদের বিষয়ে সিদ্ধান্তটিও রাজ্য কেবলই বিধানসভার মতামত তথা সম্মতির উপর নির্ভরশীল।
যদিও মোদী সরকারের দাবি, রাজ্যটি রাষ্ট্রপতির শাসনের অধীনে থাকাকালীন, সেখানকার বিধানসভার ক্ষমতাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার্লামেন্টে স্থানান্তরিত হয়ে গেছে। যে কারণে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নির্দেশের উপরেই সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভরশীল।
এর আগে গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।
এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও; কাশ্মীর জুড়ে এখনো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D