সিলেট-৪ : মাঠ কাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আ’লীগ-বিএনপি প্রার্থী ও সর্মথকরা

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৮

সিলেট-৪ : মাঠ কাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আ’লীগ-বিএনপি প্রার্থী ও সর্মথকরা

মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির : নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী প্রচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে সিলেট-৪ আসনের জৈন্তাপুর উপজেলা। প্রার্থী, প্রার্থীদের স্ত্রী, কর্মী সমর্থকরা কাক ডাকা ভোর হতে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠ কাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পাটি এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী ও সমর্থকদের নেই তেমন কোন প্রচার প্রচারনা। সাধারন ভোটাররা নৌকা ও ধানের শীষের হিসাব নিকাশ করছে।

খনিজ সম্পদের ভরপুর ও পাথর সাম্রাজ্য খ্যাত জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন সিলেট-৪। দীর্ঘ দিন ধরে আসনটি দখল করে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ। তাই ৬ষ্ঠ বারের মত আসনটি নিজের করে পেতে তৃর্ণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ কাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। সেই সাথে নারী ভোটারদের কাছে টানতে ইমরান আহমদের স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ড. নাসরিন আহমদ কাক ডাকা ভোর হতে গ্রামে-গ্রামে, পাড়া-মহাল্লায় উঠান বৈঠক ও পথ সভার মাধ্যমে নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে বিরামহীন ভাবে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২২ ডিসেম্বর শনিবার হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমরান আহমদ এমপি বলেন- শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন দেখে এবং দেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বিশ্বের বুকে উচু হয়ে দাঁড়াতে শুরু করেছে ঠিক তখনই স্বাধীনতা বিরোধী জোট জামাত শিবিরকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্টার জন্য আগুন সন্ত্রাস করে, প্রেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে নিরিহ মানুষ পুড়ে মারা, সরকারী সম্পদ ধ্বংস করা সহ নানা তান্ডব পরিচালিত করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতা এবং দৃড়তার কাছে তারা পরাজিত হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনকে বানচাল করতে নানা ভাবে অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। বিএনপি তথা জামায়াত শিবির দেশের উন্নয়ন চায় না, তারা দেশের সম্পদ লুঠের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। বিগত দিনে আওয়ামীলীগ সরকার দেশেকে উন্নয়নের মহা সড়কে রুপান্তরিত করেছে। শেখ হাসিনার সরকার এখন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্রামকে শহরে রুপান্তর করতে যাচ্ছে। তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন নৌকা মার্কায় আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানান।

এদিকে, খনিজ সম্পদে ভরপুর ও পাথর সাম্রাজ্য খ্যাত আসন সিলেট-৪ দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতংক মাথায় নিয়ে ভোটারদের কাছে বিরামহীন ভাবে তাদের প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী এ্যাডভোকেট জেবুন নাহার সেলিম কাক ডাকা ভোর হতে মধ্যরাত পর্যন্ত গ্রামে-গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক ও পথ সভার মাধ্যমে গণতন্ত্রের মুক্তি, মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুক্তির প্রতীক ধানের শীষ মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে বিরামহীন ভাবে নির্বাচনি প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২২ ডিসেম্বর শনিবার মাদার মোকাম, লুৎমাইল, কেলেসিং বাজার, শুকইনপুর, ডেমা, মোকামপুঞ্জি, ৪নং বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ ও পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য কালে দিলদার হোসেন সেলিম বলেন- আমি কে আপনারা ভাল ভাবে জানেন। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান স্বৈরাচার সরকারের দমন, পীড়ন, নির্যাতন, গ্রেফতার, গুম, হত্যা হতে নিরপরাধ মানুষকে মুক্তির জন্য আপনাদের প্রতি আমার একটাই ম্যাসেজ “আপনারা মাত্র একদিন ভোট কেন্দ্র পাহারা দিন, আমি ৫ বৎসর আপনাদের পাহারা দিব”। তিনি আরও বলেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন আপনারদের মূল্যবান ভোটটি গনতন্ত্রের মুক্তির প্রতিক ধানের র্শীষে দিয়ে জালিম সরকারের হাত থেকে দেশ ও গনতন্ত্রকে রক্ষা করুন।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির এটিইউ তাজ রহমান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পাটির অধ্যাপক মনোজ কুমার সেন (কোদাল) এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জিল্লুুর রহমার (হাতপাখা) প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার প্রচারনা ভোটের মাঠকে দখলে নিতে পারছেন না।

জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী স্থানীয় না হওয়ায় এবং তৃর্নমূল পর্যায়ে সাধারন মানুষের সাথে সম্পর্ক না থাকায় তিনি সাধারন ভোটারদের মন জয় করতে পারছেন না। শুধুমাত্র দলীয় কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারনা চলছে। বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পাটির অধ্যাপক মনোজ কুমার সেন হঠাৎ করে জন্মভূমি জৈন্তাপুরে সাধারন ভোটারদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ বিহীন অবস্থায় কোদাল মার্কা নিয়ে হাজির হয়েছেন। সাধারন ভোটাররা মনে করছেন দাদা সম্মানী ও বরণ্য ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তিনি সেই ছোট বেলায় চলে গেছেন ঢাকায়। তিন যুগ পর তিনি এলাকায় ছুঠে এলেন সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে। যুব, ছাত্র সমাজের সাথে পরিচিতি পাওয়ার জন্যই হয়তবা তিনি এসেছেন। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জিল্লুুর রহমার সম্পর্কে সাধারন ভোটাররা মনে করছে দলকে নির্বাচনি এলাকায় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই তার প্রার্থী হওয়া। সর্বোপরি সাধারন ভোটাররা নির্বাচন দৌড়ে নৌকা ও ধানের শীষকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট