৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৮
তারা পুরুষ নয়, আবার নারীও নয়। সমাজে তাদের পরিচয় বৃহন্নলা বা হিজড়া। নিগ্রহিত প্রান্তিক এ জনগোষ্টি নানা কারণে এতদিন ছিল সমাজে অবহেলিত। তবে সরকারের উদ্যোগ এবং জনসচেতনা বৃদ্ধির কারণে তারা এখন বিভিন্ন ভাবে নিজেদের স্বাবলম্বি করে তুলছে। মিশে যাচ্ছে সমাজের মূলধারায়ও।
এসব বৃহন্নলাদের নিয়ে কাজ করছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ। তাদের উদ্দেশ্য, ‘সদা বঞ্চিত নিগৃহীত প্রান্তিক হিজড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে কাজ করে সমাজে বৃহন্নলা বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা মানুষ হিসেবে বিবেচিত করা।’
এর অংশ হিসেবে ‘বৃহন্নলা’ নামের এ সংগঠনটির সদস্যরা প্রাকতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটে বেড়াতে এসেছেন ২১ হিজড়াকে নিয়ে। তাদের সাথে অংশ নিয়েছেন সংগঠনের ২৫ শিক্ষার্থীও। যারা সকলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। সঙ্গে রয়েছেন- ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গন থেকে তারা যাত্রা শুরু করেন। বৃহন্নলার সদস্যরা আনন্দঘন পরিবেশে সিলেটের বিভিন্ন অংশ ভ্রমণ করে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৃহন্নলার সভাপতি সাদিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বৃহন্নলা আয়োজিত এ ভ্রমণের উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের সকলের নিকট একটি বার্তা পৌছে দেয়া, আর তা হল দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সমাজের প্রতিটা মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা! সমাজের একটি গোষ্ঠী কে বাদ দিয়ে কখনোই একীভূত সমাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়! তাই বৃহন্নলা চায়, সমাজের সকলকে আমরা নিজ পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করি। তাহলেই দেশ বা সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন কিংবা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর লোকদের কল্যাণে কাজ করার পূর্বে তাদের সার্বিক অবস্থা বা আচরণ অনুধাবন করতে পারা, একীভূত সমাজ বিনির্মাণের এ অগ্রযাত্রায় তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য উদ্দীপনা তৈরি করাও এ ভ্রমণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ভ্রমণে থাকা সকল বৃহন্নলা প্রত্যাশা করে, তরুণ শিক্ষার্থীদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সমজের সকল স্তরের সবাই পাশে থাকলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজতর হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের পথে!
উক্ত ভ্রমণ ও বৃহন্নলার কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন মহোদয়, প্রফেসর ড.সাদেকা হালিম, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট এর বিশেষ শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, গ্লোবাল প্লাটফর্ম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সহ অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক, ড. মো. আহসান আলী, ছাত্রলীগের সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাদিক খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ত্রান ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান সুজন। এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের ২১ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D