এবার কোরবানিও নিষিদ্ধ করলো ভারত

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৬

Manual8 Ad Code

গরু জবাই নিষিদ্ধের পর এবার ভারতে ঈদুল আযহায় কোরবানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু গরুই নয়, আসন্ন কোরবানির ঈদে সব ধরণের গবাদি পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি। ভারতের প্রাণী কল্যাণ বোর্ড সব রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে গবাদি পশু পরিবহণের উপরে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

পবিত্র ঈদুল আজহার সময় পশু কোরবানির ওপর ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন দেশটির কোটি কোটি মুসলমান। পবিত্র হজের সাথে সংশ্লিষ্ট এ ঈদে ভারতের মুসলমানরা সাধারণত গরু বা অন্যান্য পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। ভারতের মুসলিমরা বেশিরভাগই উট, মহিষ ও ছাগল- ভেড়া কোরবানি দেন। কিন্তু সব ধরনের পশু জবাই ও পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন কোটি কোটি ভারতীয় মুসলমান।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর, সবকটি রাজ্যে গবাদি পশু হত্যার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ড। রাজ্য সরকারগুলিকে কেন্দ্রীয় বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশ, কোথাও কুরবানির জন্য পশু নিধন করতে দেওয়া যাবে না। যে সব রাজ্যে গো-হত্যা রোধ আইন বলবৎ রয়েছে, সেই সব রাজ্যে গরু কুরবানিও চলবে না। কুরবানির ঈদের আগে যারা অবৈধভাবে পশু পরিবহণ করছেন এবং ঈদের দিন যারা আইন ভাঙবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতে বিজেপি তথা অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে যেভাবে গরু রক্ষা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে তাতে ভারতীয় প্রাণি কল্যাণ বোর্ডের ওই নির্দেশিকা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যগুলোতে গরু জবাই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু দলটির নেতৃত্বাধীন জোট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের পর বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা আসতে থাকে। গত বছর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু ও কাশ্মীরেও গরুর মাংস নিষিদ্ধ করা হয়। এবার আসলো সব রাজ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধের ঘোষণা।
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘গবাদি পশু হত্যা এবং পরিবহণের উপরে বিধিনিষেধ আরোপ করে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠাল কেন্দ্র। কুরবানির ঈদে অবাধে গরু, বাছুর, উট এবং অন্যান্য পশু নিধন যেন না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ড নির্দেশ দিয়েছে।’

পত্রিকাটি জানায়, গত ৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং রাজ্য প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়েছেন ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ডের সচিব এম রবিকুমার। কুরবানির ঈদের কথা উল্লেখ করেই চিঠিটি লেখা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

বোর্ডের সচিব লিখেছেন : ‘শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সবক’টি রাজ্য সরকারকেই ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ড এই চিঠি পাঠিয়েছে। রাজ্য সরকারগুলিকে কেন্দ্রীয় বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশ, কোথাও কুরবানির জন্য উট নিধন করতে দেওয়া যাবে না। যে সব রাজ্যে গো-হত্যা রোধ আইন বলবৎ রয়েছে, সেই সব রাজ্যে গরু কুরবানিও চলবে না। কুরবানির ঈদের আগে যারা অবৈধভাবে পশু পরিবহণ করছেন এবং ঈদের দিন যারা আইন ভাঙবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী ব্যবস্থা সরকার নিল, তাও বিশদে কেন্দ্রীয় বোর্ডকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।’

Manual4 Ad Code

আনন্দবাজার জানায়, কেন্দ্রের এই চিঠির প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকারও। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে ভারতীয় পশু কল্যাণ বোর্ডের চিঠিটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের নিজস্ব নির্দেশ সম্বলিত চিঠিও। কেন্দ্রীয় বোর্ডের চিঠিতে যেভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, সেই অনুসারেই যেন কাজ হয়। নির্দেশ রাজ্য প্রাণীসম্পদ দফতরের।
এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশ্ন’র সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেছে, ‘ঈদুলআজহার আগে ভারতীয় প্রাণি কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে যে চিঠি দেয়া হয়েছে তাতে গো-রক্ষার নামে যারা দলিত এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালাচ্ছে তারা এতে উৎসাহিত হবে। দেশের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাছাড়া কুরবানির উদ্দেশ্যে যারা পশু বহন করে থাকেন তারা ওই পশুর প্রতি যথেষ্ট মানবিক আচরণই করে থাকেন। ইসলাম ধর্মেই মানবিক আচরণেরই নির্দেশ রয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে নতুন করে নির্দেশিকার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধ সম্পর্কিত কোনো কেন্দ্রীয় আইন নেই। তবে বেশির ভাগ রাজ্য গরু জবাই নিষিদ্ধ করে নিজস্ব আইন চালু করেছে। হিন্দুরা গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে। তাদের ধর্মে গরুকে পবিত্র বলে গণ্য করা হয়।

Manual2 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code