|
প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৬
পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে শিল্প কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
২১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছে। পাশাপাশি বিএনপি’র দলীয় নেতা কর্মীরাও মাঠে ছিলেন দিনভর। বিশৃংখল পরিস্থিতিতে ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের যান চলাচল ব্যাহত হয়। কালিয়াকুরের চন্দ্র থেকে শুরু করে কোনাবাড়ি নাওজোর হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। সকালে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্রুতই তারা ফিরতে থাকে বাসার উদ্দেশ্যে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, মানুষের জানমালের যেন ক্ষতি না হয় সে লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া অনান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে নগরের নলজানি, লক্ষ্মীপুরা এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করতে থাকে। জেলার কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক এলাকায় পোশাক কর্মীরা ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের নেমে এসে বিক্ষোভ করতে থাকলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বিশেষে নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক দফা ধাওয়া পালটা ধরার পর শ্রমিকদের ছড়িয়ে দিলে দুপুরে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে গাজীপুর মহানগরের নাওজোর এলাকার ফ্লাইওভারের ওপর দুপুরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা। না হুজুর এলাকায় বেপুরা শ্রমিকদের হামলায় আহত হয়েছেন সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার মেহেদী হাসান ও ক্যামেরা পার্সন। তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়াও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন।
চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হিরন মিয়া জানান, নাওজোর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকে আন্দোলনের সময়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও শ্রমিকদের বাধার কারণে কর্মীরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পৌঁছাতে পারেনি। পরে পুলিশের বেকার এর মাধ্যমে গাড়িটি থেকে টেনে নেয়া হয়।
সোমবার সকাল থেকে জেলার কোনাবাড়ী, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, ভোগড়া, নাওজোর ও সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকেরা। তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও নগরের লক্ষীপুরা এলাকার স্প্যারো অ্যাপারেল কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায় বহিরাগতরা। মহাসড়ককে শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভ ঠেকাতে নগর ও জেলার লক্ষীপুরা, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন স্থানে বিএনপি’র দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান করে প্রতিরোধে নামে। বিএনপি নেতাদের মধ্যে গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ছিলেন রাজপথে।
বিকেলে ভাঙচুর হওয়া স্পেরো অ্যাপারেলস কারখানা পরিদর্শন করে মনজুরুল করিম রনি বলেন, ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সাধারণ শ্রমিকরা করেনি। সীমান্তের ওপার থেকে নির্দেশে এসব অপ তৎপরতা হচ্ছে সে ধরনের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে সরকার তৎপর রয়েছে এবং ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে ইতিমধ্যেই সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। শ্রমিকরা অতি শীঘ্রই তাদের দাবি দেওয়ার বিষয়ে সুফল পাবে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি নেতাদের দাবি, আন্দোলন নামে অরাজগতা ও নাশকতা ৫ আগস্টে পতিত ও পালিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D