নিখোঁজের ৩ দিন পর নেসলের কর্মী শ্যামলের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৬

নিখোঁজের ৩ দিন পর নেসলের কর্মী শ্যামলের লাশ উদ্ধার

নিখোঁজের তিনদিন পর শ্যামল চন্দ্র দাস (৫২) এর লাশ রবিবার (১ নভেম্বর) বি-বাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার সলিমগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন শ্যামল। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের প্রমোধ দাসের ছেলে শ্যামল চন্দ্র দাস। তিনি নেসলে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির একজন কর্মী ছিলেন। তিনি নৌকাযোগে নেসলে কোম্পানির মালামাল নিয়ে আলোকবালি, বটতলী ও চর-আড়ালিয়ার দোকানগুলোতে নিয়মিত সরবারহ করে বাড়ি ফিরতেন।

প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবারও আলোকবালির রেজন মিয়ার ছেলে জহিরুলের নৌকাযোগে মালামাল নিয়ে আলোকবালিতে যান। সেখানে বাজারের দোকানগুলোতে মালামাল সাপ্লাই দিয়ে দুপুরের দিকে বাড়ি ফেরার জন্য নৌকায় উঠেন। এসময় জহিরুল তাকে নির্ধারিত পথে না নিয়ে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। শ্যামল দাস তাকে ভিন্ন পথে আনার কারণ জিজ্ঞাসা করলে জহিরুল বলে এ পথ অতি সহজ খুব দ্রুত বাড়িতে যাওয়া যাবে। একথা বলেই সে পার্শ্ববর্তী নবীনগর থানার সলিমগঞ্জের দিকে যেতে শুরু করে। এরই মাঝে অন্য একটি নৌকায় তাকে তুলে দিয়ে মাঝি বলে, আপনি এ নৌকা দিয়ে তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন। এ কথা বলে সে কেটে পড়ে। নৌকায় উঠার পর এসময় শ্যামলকে ওই নৌকায় অবস্থানরত কয়েকজন ডাকাত বেদম মারপিট করে তার নিকট রক্ষিত কোম্পানির লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং মোবাইলে তার বাড়িতে পুলিশের পরিচয় দিয়ে জানায় শ্যামল মুমুর্ষ অবস্থায়। তাড়াতাড়ি রক্তের জন্য ২৫ হাজার টাকা পাঠান। এ কথা শুনে শ্যামলের পরিবার তাদেরকে টাকা পাঠায়। এরপর থেকে শ্যামলের মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করলে কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে শ্যামলের পরিবার রায়পুরা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন এবং নৌকার মাঝি জহিরুলকে শ্যামলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জহিরুল জানায় তাকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্য নৌকার মাঝিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। পরে তারা খবর পায় সলিমগঞ্জের নদীতে শ্যামলের লাশ ভাসছে। এখবর শুনার পর শ্যামলের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সলিমগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বি-বাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোমবার (২ নভেম্বর) শ্যামলের লাশ বি-বাড়িয়া মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ রায়পুরা থানার নিজ বাড়িতে আনা হবে বলে তার পরিবার জানায়।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট