|
প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন মহালদিক হিলুয়াছড়ায় স্লুইস গেট ও সেতুর নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় এক অটোরিকশাচালককে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারকে চরম হুমকি-ধমকি ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন গ্রেফতার হওয়া অটোরিকশাচালক আনসার মিয়ার স্ত্রী মোছা. লাকি বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লাকি বেগম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের গ্রামের মৃত মজু মিয়ার দুই ছেলে- স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ইউনুস মিয়া (৪৮) ও লাহিন মিয়া (৪৩)-এর নেতৃত্বে মহালদিক হিলুয়াছড়া স্লুইস গেট ও সেতুর নিচ থেকে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সেতুর বিপুল ক্ষতি ও পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়নি।
লাকি বেগম জানান, এই পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামী সিএনজি অটোরিকশাচালক আনসার মিয়াসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ অক্টোবর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সিলেট জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি আনসার মিয়া তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ছবি-ভিডিও প্রকাশ এবং জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনুস মিয়া ও লাহিন মিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নারী জানান, এই নির্যাতনেও ক্ষান্ত না হয়ে শত্রুতার বশবর্তী হয়ে ২০১৫ সালের একটি পুরানো মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পুলিশ দিয়ে ওয়ারেন্ট জারির মাধ্যমে গত সোমবার আনসার মিয়াকে গ্রেপ্তার করানো হয়। লোকমুখে জানা গেছে, পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এই গ্রেপ্তার কার্যকর করা হয়েছে। অথচ উক্ত মামলায় আনসার মিয়া আগে দুই মেয়াদে কারাবাস করেছেন এবং বর্তমানে মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিবাদ রুখতে আনসার মিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে মিথ্যা চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের দুটি মামলা দায়ের করেছে অভিযুক্ত চক্রটি।
অভিযুক্ত ইউনুস ও লাহিনের অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে লাকি বেগম বলেন, তারা এলাকাটিতে ভয়ংকর প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। তাঁদের বিরুদ্ধে দখলবাজি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত বছর অবৈধভাবে ডিজেল মজুদের দায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে লাহিন মিয়া গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে গিয়ে বালুঘাটের রাস্তায় খুঁটি পুঁতে দেন, যাতে বালু পরিবহন বন্ধ হয়। কিন্তু ভূমি অফিসের লোকজন চলে যাওয়ার পর রাতের আঁধারে সেই খুঁটি তুলে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাকে বালু পরিবহন করা হয় এবং সকালে পুনরায় খুঁটি পুঁতে রাখা হয়।
পরিবারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাকি বেগম বলেন, আমরা এক নিম্নমধ্যবিত্ত নিরীহ পরিবার। স্বামীর দৈনিক উপার্জনেই চার সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়িসহ আমাদের সংসার চলত। এখন ঘরের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জেলে থাকায় পরিবারে অমানিশার অন্ধকার নেমে এসেছে। আমরা চরম কষ্টে দিন যাপন করছি, আর অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকির মুখে বর্তমানে জীবন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে লাকি বেগম তাঁর স্বামীর অবিলম্বে মুক্তি, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি, পরিবারের নিরাপত্তা বিধান এবং বালুখেকো চক্রের মূল হোতা ইউনুস মিয়া ও লাহিন মিয়াকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D