|
প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মাহফুজুর রহমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে তামাবিল স্থলবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির এক নেতা জানান, সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়া অন্যদের হলরুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন মন্ত্রী। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সভা শেষে তামাবিল স্থলবন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাকক্ষে প্রবেশের সময় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা দেয়। এ সময় মন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানান ওই নেতা।
এ ঘটনার পর তামাবিল স্থলবন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাকক্ষে প্রবেশের সিঁড়িতে নেতা-কর্মীদের হট্টগোলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি সূত্রের দাবি, মাহফুজুর রহমানের উচ্চ স্বরে কথা বলা ও অসৌজন্যমূলক আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শুক্রবার রাতে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মাহফুজুর রহমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন।
বহিষ্কারের পর মাহফুজুর রহমান নিজের ফেসবুক আইডিতে বহিষ্কারাদেশের কপি শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের সময় তিনি ও অন্য ছাত্রদল কর্মীরা আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
মাহফুজের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি তাঁকে ধাক্কা দেন। এ বিষয়ে তদন্ত না করেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজ লেখেন, ‘এই শহরে আমার একটাই পরিচয়, আমি ছাত্রদলের মাহফুজ।’ বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও ছাত্রদলে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রীর আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মাহফুজের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
জৈন্তাপুর শাহজালাল (রহ.) ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাহেল আহমেদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজের বহিষ্কারে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি মাহফুজকে পরিশ্রমী ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে লেখেন, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় তাঁর নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রশংসার দাবিদার। দলের কঠিন সময়ে মাঠে থেকে কাজ করা কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাহেল আহমেদ বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক উল্লেখ করে মাহফুজের ত্যাগ ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়নের প্রত্যাশা জানান।
ঘটনার বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পুলিশ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তামাবিলের ওই সভাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণ এবং মাহফুজের বহিষ্কার নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের অসন্তোষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও অবস্থান সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D