|
প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬
সুনামগঞ্জের ধোপাজান-চলতি নদীর বালু লুট প্রতিরোধ ও জড়িতদের শনাক্তে নদীর মোহনায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে পুলিশ। সিসি ক্যামেরা বসানোর পর বালু লুট কিছুটা কমে আসলেও গত কয়েকদিন ধরে সিসি ক্যামেরার নজরদারি উপেক্ষা করে বালু লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতের শেষ দিকে নদী দিয়ে একাধিক বালু ভর্তি বাল্কহেড ও নৌযান বের হয়ে আসার তথ্য পাওয়া গেছে।তবে বালু লুটের ব্যাপারটি সত্য নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ বিভাগ।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও ধোপাজান চলতি নদীর দুই তীরের বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রতিদিন অসংখ্য বাল্কহেড ও নৌযান ধোপাজান চলতি নদী দিয়ে ডলুরা সীমান্তে প্রবেশ করছে। সীমান্ত এলাকায় ড্রেজারের সাহায্যে বালু উত্তোলন করে লোড করা হয় এসব নৌযানে। রাতের শেষ দিকে সুকৌশলে সুরমা নদী দিয়ে বালু পাচার করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, বালু লুটের সাথে ডলুরা, কাইয়ারগাঁও, মনিপুরহাটিসহ নদীর তীরবর্তী এলাকায় একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত। গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ধোপাজান-চলতি গিয়ে দেখা যায়, সীমান্ত এলাকার নদীর দুই তীরে ছোট বড় অসংখ্য স্টিলের নৌকাভর্তি বালু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এসব বালুবোঝাই নৌযান রাতে বেলা কোনো এক সময় বের করা হয়। বালুবোঝাই নৌযানের মালিকের নাম জানতে চাইলে কেউই এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে ধোপাজান-চলতি নদীতে সিসি ক্যামেরা উপেক্ষা করে বালু লুটের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। মাইনুল হক খান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, ধোপাজান নদীতে এখন চলছে ড্রেজার মেশিনের তা-বলীলা। আবারও বালু লুটপাটের মহোৎসব। দেদারসে লোড হচ্ছে বাল্কহেড নৌকা।
তার অপর একটি পোস্টে সুজন মাহমুদ লিখেছেন, এই সিসি ক্যামেরা লোক দেখানোর জন্য। আর ফেসবুক গরম করার জন্য।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আব্দুস শহীদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, “আজ সন্ধ্যার পর ধোপাজান নদীতে ৫০ থেকে ৬০টি খালি নৌকা ঢুকছে।”
তবে বালু লুটের ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, এসব গুজব। সিসি ক্যামেরা উপেক্ষা করে বালু লুট হচ্ছে এটি সত্য নয়। আমরা দিন-রাত সিসি ক্যামেরা দিয়ে নদীতে নজরদারি করছি। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পর বালু লুট একেবারেই বন্ধ।
উল্লেখ্য, ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমেছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরা-চলতি নদী। তার প্রবেশ মুখে জেলার একমাত্র বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারি ধোপাজান। স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা আর পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ২০১৮ সালে কোয়ারি থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে আদেশ দেন আদালত। কয়েক বছর বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শুরু হয় হরিলুট। কয়েক দফায় লুটপাটে কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার। পরবর্তীতে প্রশাসন তৎপর হলে ফের বন্ধ হয় বালু উত্তোলন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D