ফেঞ্চুগঞ্জে আদালতের স্থিতিতাদেশ ভেঙে বাড়ি দখলের চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

ফেঞ্চুগঞ্জে আদালতের স্থিতিতাদেশ ভেঙে বাড়ি দখলের চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বসতবাড়ি ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের স্থিতিতাদেশ অমান্য করে বাড়ি দখলের চেষ্টা, হামলা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন জুবায়ের আহমদ নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাদেদেউলি গ্রামের বাসিন্দা জুবায়ের আহমদ। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক।

লিখিত বক্তব্যে জুবায়ের আহমদ বলেন, বাদেদেউলি গ্রামের দেউলি মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ১৩১৮, দাগ নম্বর ৩০৮৯-এর জমিতে ১৯৫৯ সাল থেকে তাদের পরিবারের বসবাস। ১৯৮৪ সালে একই গ্রামের মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা তাদের বাড়ির পাশে বসতি স্থাপন করেন।

জুবায়েরের দাবি, ২০১২ সালে তার বাবা আব্দুস সোবাহানের কাছ থেকে এক ডেসিমেল জমি ১০ হাজার টাকায় কেনার দাবি করেন মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা। তবে দীর্ঘদিন পর ২০২৬ সালে এসে বিষয়টি নিয়ে দাবি তোলায় তারা আপত্তি জানান। জমিটিতে একাধিক ওয়ারিশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকায় এককভাবে বিক্রয়ের বৈধতা নিয়েও তাদের প্রশ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা হয়েছে। জুবায়েরের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গায় আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। তবে এরপরও মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা ও তার লোকজন সেখানে প্রবেশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি ও দখলের চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আরও দাবি করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘিলাছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন রুফুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি তাজিবুর, কৃষকদল নেতা তারেকসহ কয়েকজন মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফার পক্ষে বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক বহিরাগত লোকজনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের অভিযোগ, ওই সময় সৃষ্ট ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফার ছেলে আতাউর রহমান সুহেল ও অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। এ সময় ঘরে থাকা তার স্ত্রী সাদিকা সুলতানকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবক গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে দৌড়ে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রী পড়ে গিয়ে আহত হন।

ঘটনার পর রাতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে জুবায়ের চিকিৎসা নেন এবং পরদিন তার স্ত্রীকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ৬ আগস্ট বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলের চেষ্টা এবং তার স্ত্রী ও বাবাকে গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১০ আগস্ট ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান জুবায়ের। তবে ওই অভিযোগের পরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

জুবায়ের আরও বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে এলাকায় একাধিক বিচার-বৈঠক হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি ম্যাপ ও খতিয়ান অনুযায়ী মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফাদের চলাচলের জন্য দুটি সরকারি রাস্তা রয়েছে।

প্রায় এক মাস আগে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পরামর্শ দেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমদ তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ৬ আগস্ট ও ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জমি বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট