জৈন্তাপুরে দুই মেম্বারের সমর্থকদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

জৈন্তাপুরে দুই মেম্বারের সমর্থকদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ ও সাবেক ইউপি সদস্য পংকি মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আহত হয়েছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।

শুক্রবারের সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ইউপি সদস্য মনসুর আহমদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন প্রায় ১০টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙচুরের প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে একই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় পথচারীসহ প্রায় ১৮ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাতের সংঘর্ষের পর পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে গ্রেপ্তারের সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘিলাতৈলে দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি মানবপাচার, চোরাচালান ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘিলাতৈলকে কেন্দ্র করে চোরাচালানের একটি কথিত রুট রয়েছে এবং এর নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বর্তমান ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে ঘিলাতৈল এলাকায় মানবপাচার ও চোরাচালান বেড়েছে। এলাকার যুবসমাজ এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আসছে। বিশেষ করে মুন্না এ বিষয়ে ভূমিকা রাখায় করিম ও তাঁর ভাই সাবেক ইউপি সদস্য পংকি মিয়া এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মনসুর আহমদের দাবি, বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে পথরোধ করে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দুই দিনের ঘটনায় প্রায় ৪০ জন আহত এবং প্রায় ১০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ ও দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহারের আহ্বানে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে পংকি মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনকালে তিনিও আহত হয়েছেন। দুই পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট