রাজনগরে বন্যার্তদের মাঝে জামায়াতের ফুডপ্যাক বিতরণ

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২৬

রাজনগরে বন্যার্তদের মাঝে জামায়াতের ফুডপ্যাক বিতরণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট এহছানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, দুর্যোগে এগিয়ে আসা সকল মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধশালী মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে যেকোন দুর্যোগে সকলের এগিয়ে আসা উচিত। বন্যা আমাদের জন্য বিভীষিকাময় পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে আমাদের নদী সমস্যার সমাধান না হওয়ায় দেশে একের পর এক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের নদী গুলোর পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারণে বেশী বৃষ্টি হলেই পানি বেড়ে যায়। এছাড়া স্থায়ী বাঁধগুলো টেকসই না থাকার কারণে গ্রামের পর গ্রামে অকাল বন্যা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে স্থায়ী ও মজবুত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামী সকল স্তরের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করে জনগণের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করছে।

শনিবার (১১ জুলাই) মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে টেংরা দারুস সুন্নাহ ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে বন্যায় অধিক ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে ফুডপ্যাক বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

রাজনগর উপজেলা আমীর আবু রাইয়ান শাহিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মিসবাহুল হাসানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা আমীর প্রকৌশলী মোঃ সায়েদ আলী।

বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা আমীর মোঃ আব্দুল মান্নান, জেলা সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আলী, গত সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার -১ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোঃ আলাউদ্দীন শাহ, রাজনগর উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল শহীদ, রাজনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাস্টার জাহাঙ্গীর আহমদ মুহিত, রাজনগর সদর ইউনিয়ন আমীর দেলোয়ার হোসেন বাবলু, টেংরা ইউনিয়ন সভাপতি মাহমুদুর রহমান, সেক্রেটারি মামুন আহমদ ও প্রবাসী নেতা আবুল কালাম রাসেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রায় ৫৪টি অভিন্ন নদীর সংযোগ রয়েছে। ভারত অধিকাংশ নদীতে বাঁধ দিয়ে রেখেছে। তারা পানি আটকিয়ে রেখে বৃষ্টির সময় পানি ছেড়ে দেয়। পানি আটকিয়ে রেখে তারা সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এতে অসুবিধা নেই। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, আন্তঃনদী সংযোগ নিয়ে উভয়ে আলাপ করতে হয়। আমাদের একটা নদী কমিশন রয়েছে। কিন্তু নদী কমিশন ভারতের সাথে আমাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর মিটিং করতে পারে না।

বিগত সরকারের জুলুম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ২০২৪ এর ৫ আগষ্ট বাংলাদেশে বৈষম্য দুর করার আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা সফল হয়েছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয় লাভ হয়েছে। তিনি বিগত স্বৈরশাসকের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসক ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এখন ভারত থেকে আমাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে ডিসেম্বরে আমি আসতেছি। আসতে যদি চান তবে গেলেন কেন? এখন বলে মাথা উচু করে আসবে। এসে আদালতে সারেন্ডার করবে। আসেন ভালো কথা- রায়ের কথা মনে রাখবেন, ভুলে যাবেন না, রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই।

তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার গত সাড়ে ১৬ বছরে দেশের রাজনীতিতে সংসদীয় ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ভেঙ্গে লুটপাট করেছে। বাংলাদেশের আজকের অর্থনীতি খারাপের পিছনে তারা দায়ী। তারা ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। যা বর্তমান বাজেটের তিনগুণ। দেশে আসেন- ফাঁসির দড়ি আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে ১৪শ মানুষ হত্যা এবং ২০ হাজার আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এসবের বিচার হবে। আগামীর বাংরাদেশে ফ্যাসিবাদের কোন ঠাই হবে না। এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা অর্থনীতি ঠিক করবো। আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিনত করা হবে। নতুন বাংলাদেশে কোন দূর্নীতি ও বৈষম্য থাকবেনা। বন্যার্ত মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি সামর্থবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট