সর্বোচ্চটা দিয়ে বন্যার্তদের পাশে থাকার আশ্বাস : সিলেটে সেনা প্রধান

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২২

সর্বোচ্চটা দিয়ে বন্যার্তদের পাশে থাকার আশ্বাস : সিলেটে সেনা প্রধান

সিলেট অঞ্চলের বন্যাদুর্গতদের সহায়তা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী দুর্গত মানুষের সহায়তায় যা কিছু করা সম্ভব তা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা সাভারসহ বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের সেনাসদস্যদের বন্যার্তদের সহায়তায় নিয়োজিত করা হয়েছে। আরও অনেককে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সহযোগিতায় সেনা সদস্যরা সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন।

রবিবার (১৯ জুন) দুপুরে সিলেটে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ ও সেনাবাহিনীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকালে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

সেনা প্রধান বলেন, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতায় নিয়োজিত সেনা সদস্যরা বানভাসি মানুষকে উদ্ধারের পাশাপাশি খাদ্য ও চিকিৎসা দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও যা প্রয়োজন তা দেওয়া হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, এই বন্যা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। কেউ প্রস্তুত ছিলনা। তবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিতভাবে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, এই বন্যা দুয়েকদিনে যাবেনা। খানিকটা সময় নিতে পারে। এরপর আবার অনেককিছু করার জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্যে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবাইকে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

রোববার সিলেটে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান। এসময় কোম্পানীগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান। পরে উপজেলার বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

সিলেট অঞ্চলে যা হয়েছে, এমন দুর্যোগ আসতে পারে, সেটি ভাবনার অতীত ছিল বলে মনে করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তবে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেনাবাহিনী দুর্গতদের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা অভাবনীয় বিপর্যয়। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আমরা দুর্গত মানুষের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তাদের সহায়তায় সেনাসদস্যরা কী পরিমাণ কষ্ট করছে তা নিজে দেখতে এসেছি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‌‘সেনাবাহিনী এর চেয়ে ভালো কাজ করতে পারত কি না- আমরা এই আলোচনায় যেতে চাই না। আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। তবে বৈরী আবাহাওয়া, প্রবল স্রোত, টানা বৃষ্টি, নেটওয়ার্কহীনতা সত্ত্বেও সেনাসদস্যরা বন্যাকবলিতদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।’

সিলেটে গত বুধবার বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার তা ভয়াবহ রূপ নেয়। সেদিন বিকেল থেকে দ্রুত বাড়তে শুরু করে পানি। তলিয়ে যায় সিলেট নগরের বেশির ভাগ এলাকা।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা। এই দুই উপজেলার প্রায় পুরোটাই পানিতে তলিয়ে গেছে। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কও পানির নিচে। পানির কারণে শুক্রবার বিকেলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘দ্রুত এই পানি নেমে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে বন্যার পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ সহসা কমবে না। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হবে।

‘পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা ত্রাণ ও চিকিৎসা প্রদান শুরু করেছি। সেনাসদস্যদের বলেছি কষ্ট যতই হোক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট