মাত্র ১০ টাকায় চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২২

মাত্র ১০ টাকায় চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জন্য রয়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল। রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় স্থাপিত এই বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রায় বিনামূল্যে সব রোগের চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধ মিলে। ১০ টাকার টিকিটে বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিতে পারেন সেবা। প্রতিষ্ঠানিট আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল।

২০১৫ সাল থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হচ্ছে। শুরুতে প্রথম সারির কর্মকর্তাদের চিকিৎসা গ্রহণে অনীহা থাকলেও কোভিডকালে তাদের অনেকেই হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। দীর্ঘদিন আইসিইউসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অকেজো হওয়ায় বন্ধ ছিল অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। করোনাকালে সচল হয়েছে ছয় শয্যার আইসিইউ। নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট। সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন আধুনিক যন্ন্ত্রপাতি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পদায়ন করেছে জনবল।


করোনা শনাক্তকরণের জন্য আরটিপিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয়েছে মহামারির শুরুতেই। প্রতিষ্ঠানটিতে এখন সর্বাধুনিক পরীক্ষা ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং স্ক্যানার (এমআরআই) ছাড়া সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রয়েছে সুযোগ।

এসব পরীক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে করার সুযোগ রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হাসপাতালের অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক। এজন্য সম্প্রতি দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও এই হাসপাতালের আদলে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।


হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১৪৯ জন চিকিৎসক ও নার্স কর্মরত রয়েছে। হাসপাতালটির প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়টি দেখভাল করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আর জনবল দেখছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্মচারী ও তাদের পোষ্যরা এখানে ফ্রি চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।

হাসপাতালটির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর ভর্তি হচ্ছেন ১৫ থেকে ২০ জন রোগী। বর্তমানে আইসিইউতে কোনো রোগী ভর্তি নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, আগের চেয়ে হাসপাতালের সেবার মান অনেক বেড়েছে। আমাদের আইসিইউ অকেজো ছিল। রোগী আসতো না।

সেখানে এখন রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে ভালো। অবসরপ্রাপ্ত কিংবা কর্মরত যারাই চিকিৎসা নিতে আসেন তার বেশিরভাগ বহির্বিভাগে সেবা নেন। অল্প সংখ্যক মানুষ ভর্তি হলেও ননকোভিড প্রথম শ্রেণির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভর্তি হন না। এক্ষেত্রে আমার মনে হয়, এখনো সবার আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। প্রচারণারও ঘাটতি রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যার ১৬ তলা হাসপাতালে পরিণত করার জন্য একনেক অনুমোদন দিয়েছে। এজন্য ব্যয় হবে ৩৮০ কোটি টাকা। সেই কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সংস্থার অনিষ্পন্ন বিষয়ের অগ্রগতি বিষয়ে চলতি বছরের গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে নতুন করে ৮৬টি পদ সৃজন করা হয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী যে সব পদ পূরণ হচ্ছে না, সে সব পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের বিষয়টি অনুবিভাগে রয়েছে।

ইতোমধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির শূন্যপদে নিয়োগপত্র জারি করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৪ জন যোগদান করেছেন। অপরদিকে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জন্য দুই হাজার ৮১ জনের একটি জনবল কাঠামো সুপারিশ করে পদ সৃজনের জন্য সম্ভাব্য প্রস্তাব পাঠানো হলে অনুবিভাগ এক হাজার ৭৬২ জনের (আউট সোর্সিং ব্যতীত) জনবল কাঠামো অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোর ভিত্তিতে বিধি অনুবিভাগ থেকে একটি খসড়া নিয়োগবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত জনবলে অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রাপ্তির পর খসড়া নিয়োগবিধি চূড়ান্তকরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

হাসপাতালটির সদ্য সাবেক পরিচালক আবু আহমদ ছিদ্দীকী বলেন, করোনাকালে হাসপাতালে রোগীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই থেকে রোগীদের যাতায়াত বেড়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে।

উপপরিচালক ডা. মো. শাহ আলম বলেন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে সব ধরনের রোগীর মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। মাত্র ১০ টাকার টিকিটে রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা ওষুধ সবকিছু বিনামূল্যে মিলছে। তিনি বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা তো আছেই। নতুন করে ৫০০ শয্যার ১৬ তলা ভবনের কাজ শেষ হলে রোগীদের আরও উন্নত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট