২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২২
সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের অনুরোধে অবশেষে ৭ দিন পর অনশন ভাঙলেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পানি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
এর আগে ভোররাত ৪টার দিকে এবং সহধর্মিণী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. ইয়াছমিন হককে সঙ্গে নিয়ে অনশনরতদের কাছে আসেন তিনি। তাদের সঙ্গে দু’ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনার পর অনশন ভাঙতে রাজি হন শিক্ষার্থীরা।
তবে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি আবেগি মানুষ। চোখের জল আটকাতে পারি না। আমি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী স্মারকে লিখে ১০ হাজার টাকা পেয়েছি। এটা এখন তোমাদের দিচ্ছি। এখন সিআইডি দেখি আমারে অ্যারেস্ট করে কিনা। আমারে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যাক।
পুলিশের উদ্দেশে জাফর ইকবাল বলেন, ছাত্রদের গায়ে হাত তুলবেন না। অলরেডি হাত তুলে আপনারা অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছেন। আর করবেন না। তাদের হয়রানি করবেন না।
শিক্ষার্থীদের সব অভিযোগ ও দাবি শোনার পর ড. জাফর ইকবাল বলেন, তোমরা আমাকে গণমাধ্যমের সামনে কথা দিয়েছ, এ অনশন ভাঙবে। তোমাদের জীবন অনেক মূল্যবান। একজন মানুষের জন্য তোমরা জীবন দিয়ে দেবে, এটা মানা যায় না। গ্রেফতার সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীর বিষয়ে কথা হয়েছে। যেহেতু মামলা করা হয়ে গেছে, তাদের তো আদালতে তোলা হবে। আশ্বাস পেয়েছি ছাত্রদের জামিন দেওয়া হবে।
গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তার পদত্যাগ বা সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগে রোববার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে উপাচার্য পুলিশ ডেকে আনেন তাকে উদ্ধার করতে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।
১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে ২৩ জন শিক্ষার্থী। একই দাবিতে পরদিন ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন কয়েকশ’ শিক্ষার্থী।
এদিকে, শাবিপ্রবিতে চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ‘টাকা পাঠানোর’ দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালবাদ থানায় ওই মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাত থেকে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সাবেক ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- আর্কিটেকচার বিভাগের রেজা নূর মুঈন, নাজমুস সাকিব দ্বীপ এবং সিএসই বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান।
আটক শিক্ষার্থীদের পরিবার ও বন্ধুদের অভিযোগ, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবিপ্রবির চলমান আন্দোলনে কিছু অর্থ সহায়তা করায় তাদের আটক করা হয়েছে।
এদের মধ্যে আটক রেজা নূর মুঈনের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘রেজা সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের কাছে মুদি কেনাকাটার জন্য গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট তুলে নেয়। পরে তারা রেজার গাড়ি ফেরত দিতে বাসায় আসে এবং জানায় যে রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
যারা বাসায় এসেছিল তাদের গাড়িতে সিআইডির স্টিকার লাগানো ছিল বলে জানান রেজার স্ত্রী। তার ধারণা, শাবিপ্রবিতে চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ‘টাকা পাঠানোয়’ রেজাকে আটক করা হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D