১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া সিলেটের ১৩ জনসহ ১৫ যুবক দেশে ফিরেছেন। বাকী দুইজন মাদারীপুরের বাসিন্ধা বলে জানা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান ১৫ বাংলাদেশি। বিমানবন্দরে এসেই পড়তে হয় বিভিন্ন সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের ‘গ্যাড়াকলে’। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের কারণে বিমানবন্দরেই কেটেছে সারাদিন।
মঙ্গলবার রাতে দেশে ফেরত আসা যুবকরা শাহজালাল বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন বলে জানান তাদের স্বজনরা। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল স্বজনদের মাঝে। সন্তানকে ফিরে পাবার ব্যাকুলতায় পথ চেয়ে বসে আছেন মা। তবে আজ বুধবার তারা বাড়ি ফিরবেন বলে আশা করছেন স্বজনরা।
দেশে ফেরা সিলেটের যুবক রুবেল আহমদের ভাই রাসেল আহমদ মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দেশে ফেরত আসাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেটের সদর উপজেলার ঘোপাল এলাকার মো. চমক আলীর ছেলে রুবেল আহমদ, দক্ষিণ সুরমার লালারগাও এলাকার জাবের, বিশ্বনাথ উপজেলার পালরচক গ্রামের মাছুম আহমদ এবং বিয়ানীবাজারের আরেক যুবকসহ বিভিন্ন উপজেলার ১০ জন।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওই ১৫ জন দেশে পৌঁছান। শাহজালালে আসার পর রুবেলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিমানবন্দরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিনি বলেন, রুবেলের সঙ্গে একই ফ্লাইটে দেশে আসা সিলেটের ১৩ জনই বিশ্বনাথ উপজেলার কাঠলীপাড়া গ্রামের চমক আলীর ছেলে আদম ব্যাপারী রফিকুল ইসলাম রফিকের মাধ্যমে ইতালি যেতে চেয়েছিলেন।
এর আগে, গত সোমবার দুপুরে মা রাজিয়া বেগমকে ফোন দিয়ে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল গ্রামের রুবেল আহমদ।
তিউনিশিয়া থেকে দেশে ফেরা রুবেলের ভাই রাসেল আহমদ জানান, ২০১৮ সালের জুন মাসে ১০ রমজান আদম ব্যাপারী রফিকুল ইসলাম রফিকের মাধ্যমে রুবেলকে লিবিয়া পাঠানো হয়। রফিক লিবিয়ায় থাকা তার পুত্র পারভেজের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। লিবিয়া পৌঁছার আগে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নেয় রফিক।
এরপর গত ৯ মে লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর আগে তাদের কাছ থেকে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয় তারা। ওই টাকাগুলো নিজের বসতঘরের পাশের চার শতক জায়গা বিক্রি করে দেয়া হয়। সবমিলিয়ে ৯ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
রুবেলের মামা আবুল হোসেন জানান, দালাল রফিক তাদের সাথে কথা রাখেনি। কথা ছিল বাংলাদেশ থেকে বিমানে লিবিয়া এবং সেখান থেকে মাছ শিকারের জাহাজে করে তাদের ইতালি পাঠানো হবে। প্লাস্টিকের বেলুনের মতো নৌকায় তুলে সাগর পাড়ি দেয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, সংঘাতময় লিবিয়ার জুয়ারা থেকে অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার পথে গত ৯ মে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৩৯ বাংলাদেশির একটি তালিকা সরকারের পক্ষ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাচারকারীচক্রের তিন সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এছাড়া নৌকা ডুবে নিহত একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D