৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৮
সিলেট সদরসহ জেলা ৬টি আসন উদ্ধারে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি। নিজ দলের একক প্রার্থী নির্বাচন ও শরিকদের সাঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে না পারার প্রভাব পড়বে নির্বাচনে।
একাদশ নির্বাচনের জন্য জেলার ৪টি আসনে একাধিক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যে দুটি আসনে বিএনপির একক মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সেখানে শরিক জামায়াত ছাড়াও অন্যরা প্রার্থী দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কোনো কোনো আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর সাঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শরিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সব মিলিয়ে সিলেটের ৬টি আসনে শেষ পর্যন্ত কে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ও ঐক্যফ্রন্টের একক প্রার্থী দেয়া সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
জেলার ৬টি আসনে ভোটযুদ্ধে কারা থাকছেন এর প্রকৃত চিত্র পেতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত।
অতীত পরিসংখ্যান ও প্রতি আসনে শরিকদের নিয়ে একক প্রার্থী নির্বাচন করতে না পারায় অনেকটা হ-য-ব-র-ল অবস্থায় রয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। ফলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে নামার আগে একক প্রার্থী নির্বাচনটাই আরেক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি হাইকমান্ডের সামনে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ভোটযুদ্ধে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিএনপি কতটুকু সফল হবে তা সময়েই বলে দেবে।
মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ (সিটি কর্পোরেশন-সদর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই ড. এ কে আবদুল মোমেনকে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তার বিপরীতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার পুত্র ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব। এ আসনে লুনার প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয় তার অর্ণবকে।
এছাড়া জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কাজী আমিন উদ্দিন এবং গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মোকাবিবর খান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই আসনটি আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিয়েছে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়াকে।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বর্তমান এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বিপরীতে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ হক, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এছাড়া এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নজরুল ইসলাম ও সিলেট জেলা খেলাফতে মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসাইন।
সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ইমরান আহমদের বিপরীতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহস্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। এছাড়াও এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আতাউর রহমান।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার। জোটের শরিক জামায়াতের সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে আসনটি ছেড়ে দিলেও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন ও শরিফ উদ্দিন লস্কর। এছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। নবম সংসদ নির্বাচনে আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ায় এবারও আসনটি দখলে রাখতে মরিয়া দলটি।
সেই লক্ষ্যে জোটের প্রার্থী হিসেবে সিলেট দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এই আসনটি নিজেদের দখলে নেয়ার লক্ষ্যে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও চিত্রনায়ক হেলাল খান।
এছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আসআদ উদ্দিন আল মাহমুদ।
সিলেট জেলার ৬টি আসন উদ্ধারে বিএনপির মিশন বাস্তবায়নে প্রধান বাধা এখন শরিকরা।
বিষয়টি স্বীকার করে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম জানান, আওয়ামী লীগের হাত থেকে আসনগুলো উদ্ধারে জোটের একক প্রার্থী দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন প্রতিটি আসনেই একক প্রার্থী দিতে জোট সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D