|
প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২৬
নিজের মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ এনে নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কানাডা প্রবাসী মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী এবং তাঁর বোন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তাজিন ইসলাম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা তাঁদের ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মা বুলবুল নাহার চৌধুরীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁদের বাবা এনামুল ইসলাম চৌধুরী ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি মারা যান। ২০২২ সালের ২৮ মার্চ নিবন্ধিত বণ্টননামা অনুযায়ী, সুবিদবাজারে ব্র্যাক ব্যাংকের ভবনের অর্ধেক এবং পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের ভূমির অর্ধেক তাঁদের প্রাপ্য। কিন্তু খতিয়ান নম্বর ২০৩৬৫ ও ২০৩৬৮-এর আওতাধীন জমি, কমিউনিটি সেন্টার ও ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে ভাড়া দেওয়া চারতলা ভবন তাঁদের ভাই, মা ও সহযোগীরা দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
তাদের অভিযোগ, তাঁদের অনুপস্থিতিতে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মাসুক মিয়া, নওশেবা ফারাহ তুনা ও বুলবুল নাহার চৌধুরী তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন। ওই দলিল ব্যবহার করে ২০২১ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের সুবিদবাজার শাখার ভাড়া থেকে তাঁদের প্রাপ্য আনুমানিক এক কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। দলিল তৈরির সময় তাঁরা দুজনই বিদেশে ছিলেন বলে দাবি করেন এবং পাসপোর্টের ভ্রমণসংক্রান্ত নথিকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পল্লবী কমিউনিটি সেন্টার ও ব্র্যাক ব্যাংককে ভাড়া দেয়া চার তলা ভবন জবরদখল করে রেখেছেন তাঁদের ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু) ও মা বুলবুল নাহার চৌধুরীসহ সহযোগীরা। এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর বোনের নিযুক্ত আমমোক্তার মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় ও গালিগালাজ করা হয়।
মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই প্রতারণার বিচার চেয়ে তাঁরা সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন এবং আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই এর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালত বিতর্কিত আমমোক্তারনামা জব্দ এবং বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাক্ষর পরীক্ষার আদেশ দেন।
তিনি বলেন, প্রতারণা এড়াতে গত ২২ এপ্রিল কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁরা Declaration To Revoke The General Power of Attorney সম্পাদন করেছেন। এর মাধ্যমে কথিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির সকল কার্যকারিতা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। ফলে উক্ত দলিলের ভিত্তিতে করা যেকোনো লেনদেন বা চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ বা বাতিল বলে গণ্য হবে।
এছাড়া তাঁর ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু) সিলেট সদর উপজেলার নালিয়া আঙ্গারুয়া মৌজার প্রায় ২৬২ শতক জমি এবং ঢাকার ধানমন্ডিতে তাঁদের পৈতৃক বাড়ি দখলে রাখার অভিযোগ করেন তারা। তাঁদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি ৭১/২০১০ নম্বরের অছিয়তনামার কার্যকারিতা গত ৪ অক্টোবর সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে দেশে এসে সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে বিরোধ বাড়ে। গত ১৫ অক্টোবর রাত আটটার দিকে সুবিদবাজারের বাসায় অবস্থানকালে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও বুলবুল নাহার চৌধুরী ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এ ছাড়া বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা, ইন্টারপোলের পরোয়ানা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর কোতোয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তারা (জিডি নং ১৬০৮, তারিখ ১৫/১০/২০২৬ইং)।
এ অবস্থায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর বোন তাজিন ইসলাম চৌধুরী জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে কোটি টাকা আত্মসাৎকারী ও ভুয়া দলিল সৃষ্টিকারী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধার, জবরদখলকৃত জমি ও ভবন প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানান। দেশে তাঁদের অনুপস্থিতিতে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও হাবিবুর রহমান শিবলু সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী এবং তাঁর বোন তাজিন ইসলাম চৌধুরীর প্রবাসে অবস্থানকালে দেশে তাঁদের সকল কার্যক্রম তদারকির কাজে নিয়োজিত মো. আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও হাবিবুর রহমান শিবলু।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D