বিশ্বনাথে স্কুলছাত্র সুমেল হত্যায় প্রবাসী সাইফুলসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৫

বিশ্বনাথে স্কুলছাত্র সুমেল হত্যায় প্রবাসী সাইফুলসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চৈতন্নগরের স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া (১৮) হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়াও আরও ১৭ জন আসামীর ২ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় মোট ৩২ জন আসামীর মধ্যে ১জন পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহীন এই মামলার রায় ঘোষনা করেন।

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় মোট ৩২ জন আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলায় মোট ২৩ জন স্বাক্ষী স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। রায় ঘোষণা শেষে তাদের সবাইকে করাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, এদের মধ্যে ফাঁসির দন্ড পাওয়া আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। বাকী সব আসামি রায় ঘোষণার সময় এজলাসে ছিলেন। আর প্রধান আসামি সাইফুল প্রায় ৪ বছর ধরে জেল হাজতে রয়েছেন।

মৃত্যুদন্ডের আদেশপ্রাপ্তরা হলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল ইসলাম, নজমুল আলম, সদরুল ইসলাম, সিরাজ আলম, জামাল আহমদ, শাহিন আহমদ, আব্দুল জলিল ও আনোয়ার হোসেন। এদের মধ্যে  আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জ্বীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ইলিয়াস হোসেন, আব্দুন নুর, জয়নাল হোসেন, আশিক হোসেন, আছকির আলী, আকবর হোসেন ও ফরিদ আহমদ।

জানা যায়, ২০২১ সালের ১ মে বিশ্বনাথ উপজেরার চৈতননগর গ্রামের নজির উদ্দিনের ক্ষেতের জমি থেকে জোর করে রাস্তায় মাটি তুলতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম। এসময় তাকে বাধা দেন নজির উদ্দিন, চাচাতো ভাই মানিক মিয়া ও ভাতিজা ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্র সুমেল মিয়া। এতে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাইফুল আলমের বন্দুকের গুলিতে ওইদিন সুমেল মিয়া নিহত হন। এসময় সুমেলের বাবা ও চাচাসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন।

ঘটনার পর সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজিল বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা (বিশ্বনাথ থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ০৩/০৫/২১ইং, দায়ের করেন)। তৎকালীন বিশ্বনাথ থানার ওসি তদন্ত কর্মকর্তা রমা প্রসাদ চক্রবর্তী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩২ জনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করেন। মামলার প্রায় চার বছর পর আজ (বুধবার) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

এরআগে গত ১৩ জুলাই মামলাটি যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল এবং ঐদিন আদালত ৩০ জন আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করেন। মামলায় ৩২জন আসামির মধ্যে এজাহার নামীয় আসামি মামুনুর রশীদ পলাতক এবং প্রধান আসামি যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম আটকের পর থেকে প্রায় পৌনে ৪ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট