২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭
এশিয়ার বৃহত্তম আইনজীবী সমিতি ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের। এই পরাজয়ের নেপথ্যে কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে আইনজীবী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও।
২০১৭-২০১৮ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের ভোটে ২৭টি পদের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা জয় পেয়েছেন মাত্র ছয়টিতে। আগের বছর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল পেয়েছিল সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদ। এবার ঠিক বিপরীত ফল হয়েছে।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই বারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১৬ হাজার ভোটারের মধ্যে ৮৯১০ জন আইনজীবী তাদের নেতা নির্বাচনে ভোট দেন। শুক্রবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সরকার সমর্থক প্যানেলের একজন প্রার্থী বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জনবিচ্ছিন্নতার কারণেই পরাজয় হয়েছে। আর এ পরাজয় থেকে উত্তরণের জন্য আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্বাধীন সাদা প্যানেলের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। কর্মীদের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।
আইন অঙ্গনের এই বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে প্রধানত নিজেদের মধ্যে তীব্র কহলকে দায়ী করছেন অপর এক পরাজিত প্রার্থী। তিনি বলেন, সঠিক প্রার্থী বাছাই না করা এবং সরকারের জনসমর্থন হ্রাস পাওয়াসহ নানা বিষয়ও বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
এদিকে বিজয়ের পেছনে সরকারের জনসমর্থন হ্রাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের বিজয়ী এক নেতা। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন ধরণের অন্যায় ও অত্যাচারের প্রতিফলন ঘটেছে আইনজীবীদের নির্বাচনে। আইনজীবীরা অনেক সচেতন। তারা ভোটের মাধ্যমে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের অভাব, পুলিশের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডসহ সব কিছু নিয়ে সরকারের বাড়াবাড়ির প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গতবারে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতাও তাদের পরাজয়ের কারণ বলে মনে করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের ওই আইনজীবী নেতা।
নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু বিজয়ী হয়েছেন। অন্যান্য বিজয়ীরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন, সহসভাপতি কাজী মো. আবুল বারিক, সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার কায়ছার রাহাত, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, দপ্তর সম্পাদক পদে মো. আফানুর রহমান রুবেল, এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. জহিরুল ইসলাম কাইয়ুম। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে বিজয়ী সদস্যরা হলেন অ্যাডভোকেট আবু হেনা কাওসার, মো. আনোয়ার পারভেজ কাঞ্চন, মো. আরিফ হোসাইন তালুকদার, মো. শহিদুল্লাহ, মো. শওকত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, মোস্তফা সারওয়ার মুরাদ, মোসতারী আক্তার নূপুর, মিনারা বেগম রিনা, পান্না চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মাদ মাইনুল হোসেইন অপু ও তামান্না খানম আইরিন।
অন্যদিকে সাদা প্যানেলের বিজয়ীরা হলেন কোষাধ্যক্ষ পদে মো. হাসিবুর রহমান দিদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা পলাশ। বিজয়ী সদস্যরা হলেন অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান অমি, মো. আল আমিন সরকার ও ওয়ায়েস আহমেদ কায়েস।
এবারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ছিলেন ঢাকার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খন্দকার আবদুল মান্নান।
উল্লেখ্য, ২০১৩-১৪ সালের নির্বাচনে ২৫টি পদের বিপরীতে নীল প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩টিতে ও সভাপতিসহ ১২টি পদে সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D