সিলেটে কিশোর অপরাধীদের ধরতে শিগগির অভিযান

প্রকাশিত: ১:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২১

সিলেটে কিশোর অপরাধীদের ধরতে শিগগির অভিযান

সিলেটে দিন দিন বেড়েই চলছে কিশোর অপরাধ। বেপরোয়া কিশোর অপরাধীরা গড়ে তুলেছে এলাকাভিত্তিক গ্রুপ। আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ে এসব গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই ঘটছে সংঘাত, সংঘর্ষ ও হানাহানি। নিজেদের মধ্যে মারামারি ছাড়াও চুরি, ছিনতাই, এমনকি খুনোখুনিতেও জড়িয়ে পড়ছে কিশোর অপরাধীরা। সিলেট নগরে কিশোর অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত অভিভাবকরা। এই অবস্থায় কিশোর অপরাধ দমনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এতোদিন অভিভাবকদের সতর্ক ও অপরাধের সাথে যুক্ত কিশোরদের কাউন্সিলিং করা হয়েছিল। কিন্তু এতেও যারা সংশোধন হয়নি তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযানে নামতে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ লক্ষ্যে কিশোর অপরাধীদের তালিকাও প্রস্তুত করেছে পুলিশ ও র‌্যাব।

সূত্র জানায়, নগরের আম্বরখানা, বড়বাজার, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, কাজিটুলা, কুমারপাড়া, টিলাগড়, শিবগঞ্জ, নয়াসড়ক, মিরাবাজার, লামাবাজার, পূর্ব জিন্দাবাজার, মেডিকেল রোডসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠেছে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং। এসব গ্যাং এর সদস্যরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায় মারামারিতে লিপ্ত হয়। গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, মাদকস্পট নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর, চুরি-ছিনতাই, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও ইভটিজিংসহ সবধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তারা। এক গ্রুপ, অন্য গ্রুপের এলাকায় হস্তক্ষেপ করলেই লেগে যায় মারামারি। সন্ধ্যা হলেই পাড়া-মহল্লার গলির মুখে আড্ডা বসায় এসব গ্রুপের কিশোররা। তাদের হাতে প্রায়ই নাজেহাল হতে হয় বয়স্ক মানুষদেরও।

ইতোমধ্যে এসব কিশোর অপরাধীদের চিহ্নিত করেছে র‌্যাব। কিশোর গ্যাংগুলোর অপকর্ম নির্মূল করতে শিগগিরই অভিযানে নামার কথা জানিয়েছেন র‌্যাব-৯ এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার ওবাইন। তিনি জানান, কিশোর অপরাধীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্যাং লিডারসহ কিশোর অপরাধের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে শিগগির অভিযান শুরু করবে র‌্যাব।
সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) সূত্র জানায়, কিশোর অপরাধীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে নিতে বর্তমান পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেড় শতাধিক কিশোর অপরাধীর তালিকা তৈরি করা হয়। প্রথমে এসব অপরাধী ও তাদের অভিভাবককে ডেকে আনা হচ্ছে। অভিভাবককে তার সন্তান সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। আর কিশোর অপরাধীকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে কাউন্সিলিং করা হয়। এরপরও যারা অপরাধ কর্মকান্ড থেকে সরে আসেনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ জানান, ‘কিশোর বয়সে সবার মধ্যে একটা হিরোইজম কাজ করে। এসময় না বুঝে বা বন্ধু-বান্ধবদের পাল্লায় পড়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আমরা চাই না এদেরকে জেলে পাঠিয়ে ক্রিমিনাল বানাতে। সে জন্য তালিকা করে তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে তার সন্তানের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে সতর্ক করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদেরও কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই মানবিক উদ্যোগের পরও যারা অপরাধ জগতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ কোন ছাড় দেবে না।


 

  •