সিলেটে যুবদল নেতার নেতৃত্বে বিএনপি নেতার জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২৫

সিলেটে যুবদল নেতার নেতৃত্বে বিএনপি নেতার জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ

সিলেট নগরীর কদমতলী এলাকায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ৮৪ শতক পারিবারিক সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। সিলেট মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি বেলাল আহমদের নেতৃত্বে এ অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন স্থানীয় কদমতলী এলাকার মৃত আফরোজ বক্সের স্ত্রী মোছা. সুনারা বেগম। তিনি সিলেট মহানগরীর ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাহী সদস্য তাজুল ইসলাম টিপুর মা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- সুনারা বেগম তার স্বামী মরহুম মো. আফরোজ বক্সের নামে থাকা দক্ষিণ সুরমার মোমিনখলা মৌজায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ৮৪ শতক ভ‚-সম্পত্তি ৩৫ বছর ধরে ভোগদখল করছেন। সেখানে ‘আফরোজ ম্যানশন’ নামে একটি বহুতল মার্কেটও রয়েছে। ওই মার্কেট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- সিলেট বিএনপির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি বেলাল আহমদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০১৪ ও ২০২৩ সালে বেলাল আহমদের আত্মীয় মোছা. হাওয়ারুন নেছা গং আদালতে স্বত্ব বাটোয়ারার দুটি মামলা করেন এবং ওই জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাদের দাবি নামঞ্জুর করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর ২৭ মার্চ তাজুল ইসলাম টিপুকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যায়িত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ধরিয়ে নেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- ২৮ মার্চ বেলাল ও তার সহযোগীরা আফরোজ মার্কেট ও জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ ব্যাপারে তাজুল ইসলাম টিপু আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বেলাল আহমদসহ মদিনা মার্কেট এলাকার নিবাস সি-২০ নং বাসার মৃত মাহমদ আলীর ছেলে আবদুল মনির ও আবদুল মুমিনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীনও রয়েছে।

বেলাল ও তার সহযোগীদের একের পর এক হুমকি ও জায়গা দখলের অপচেষ্টার পরও পুলিশের নিরব ভূমিকায় রয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- রাজনৈতিক প্রভাবে বেলালের নেতৃত্বে ২৪ জুন ফের আফরোজ মার্কেট দখলের চেষ্টা কারা হয় এবং তাজুল ইসলাম টিপুর উপর হামলা চালানো হয়। অথচ হামলার শিকার হওয়ার পরও পুলিশ এ বিষয়ে মামলা নেয়নি। উল্টো টিপুসহ ১৫ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়।এই মামলার কারনে টিপু বক্স ঘর ছাড়া। তার পরিবারের জীবন এখন শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। অজানা আতঙ্কের কারণে বাচ্চাদেরও বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতে পারছেন না।

তিনি দাবি করে বলেন, আমরা বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, সিসিকের হোল্ডিং টেক্স পরিশোধ করি। আমাদের সাথে আমাদের সাথে ভাড়াটে বিভিন্ন দোকানীদের বিভিন্ন মেয়াদে চুক্তি পত্র রয়েছে। বর্তমান মাঠ জরিপও আমাদের। ২০১৪ সালে একই দাগে বাংলাদেশ সরকারের বিপক্ষে আমরা আমাদের (আফরোজ গংয়ের) ১৬ শতক ভূমির জন্য আপিল করলে বিজ্ঞ হাইকোর্ট বিভাগ আমাদের ১৬ শতক ভূমি ফিরিয়ে দেয়। তাহলে তারা কিভাবে আমাদের এখানে সম্পত্তি দাবি করে জমি মার্কেট জবর দখলের চেষ্টা করে? ওরা আদালতে বাটোয়ারা মামলা করেছে, বিজ্ঞ আদালত এর রায় দিবেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে বিএনপি নেতা বেলাল গংরা কিভাবে দখল করার চেষ্টা করে।

দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে সুনারা বেগমের পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- গ্রেপ্তার আতঙ্কে তাজুল ইসলাম টিপু এখন বাসা-বাড়িতে থাকতে পারছেন না। আর আদালত যখন মামলাগুলো দেখছেন, তখন কেন বারবার ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এব্যাপারে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধা মোছা. সুনারা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফারজানা আক্তার বাবলী।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট