৫ জুলাই সারাদেশে বিএনপির সমাবেশ : ৯ তারিখে প্রতীকী অনশন

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০১৮

৫ জুলাই সারাদেশে বিএনপির সমাবেশ : ৯ তারিখে প্রতীকী অনশন
কুমিল্লার মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আপিলে স্থগিত
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতাদেশে বিস্ময় প্রকাশ করে এর প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে বিএনপি। একই সঙ্গে তারা তাঁর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ৯ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতীক অনশনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার একটি মামলায় একটি আদেশ দেয়া হয়েছে, যে আদেশটি আমাদের বিস্মিত ও বিক্ষুব্ধ করেছে, গোটা জাতি আজকে বিক্ষুব্ধ হয়েছে। আপিল বিভাগ থেকে এই আদেশটি হয়েছে। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ করে দেশনেত্রীকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে কারাগারে আটক রাখার চেষ্টা করছে সরকার। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এই প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সরকারের এহেন প্রক্রিয়ায় ঘৃণা প্রকাশ করছি। সরকারের এই ন্যক্কারজনক অপকৌশল দেশনেত্রীকে আটকিয়ে রাখার প্রতিবাদে আমরা আগামী ৫ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করছি। ঢাকা মহানগরীতে প্রতিবাদ সমাবেশটি হবে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল ১১টায়। এরপরে দেশনত্রীর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ৯ জুলাই প্রতীক অনশন অনুষ্ঠিত হবে সারাদেশে। ঢাকাতে আমরা স্থানের জন্যে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন অথবা মহানগর নাট্যমঞ্চে চাইব। আশা করি, আমরা অনুমতি পাব। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি ‘যথাসময়ে গণমাধ্যমকে’ জানানো হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন উচ্চ আদালতের বহাল রাখার পরও কেন তিনি এখনো মুক্তি পাচ্ছেন না। সারাদেশে দেশের মানুষের কাছে এটা বড় প্রশ্ন। এর প্রধান কারণ হলো নিম্ন আদালত। কুমিল্লায় ৩টি, নড়াইলে একটি ও ঢাকায় দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তাঁকে। এগুলো একেবারে নিষ্ক্রিয় ও হয়রানিমূলক মামলা ছিল। এই ৬টার মামলায় অন্য আসামিরাও কিন্তু জামিনে মুক্ত আছেন। এই যে বৈষম্যটা দেশনেত্রীর জন্য করা হচ্ছে শুধু তাঁর জামিন বিলম্বিত করার জন্য। তাঁর বিরুদ্ধে ৩৬টা মামলায় জামিন হয়েছে। শুধু এই ৬টি ছাড়া। এসব মামলায় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদেশ দিলেও নড়াইল ও কুমিল্লার মামলায় শুনানি হলেও আদেশ দেবে যথাক্রমে ১৭ জুলাই ও ৮ আগস্ট। কত নিচু মনের সরকার। নিম্ন আদালতকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সরকার, সে জন্য নিম্ন আদালতের বিচারকরা তাই করছেন। তা নাহলে হাইকোর্টের আদেশের পরও নিম্ন আদালতের বিচারকরা মানছেন না। এটা ভয়ঙ্কর একটা বিষয়। এটা আদালত অবমাননার শামিল তো বটেই এটা বড় অপরাধও। কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘সরকারের পেটুয়া বাহিনী’ হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনার নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, আবদুল কাইয়ুম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ।
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট