সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে অগ্নি নির্বাপন মহড়া

প্রকাশিত: ১:১০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৭

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে অগ্নি নির্বাপন মহড়া

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নি নির্বাপন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে রানওয়ের পাশে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরে এ ধরণের মহড়ার আয়োজন করা হলো।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ পুলিশ, হাসপাতাল, ফায়ার বিগ্রেডসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাগণ উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।
মহড়া পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মো. মোস্তাফিজুর রহমান জিইউপি, এনডিসি, পিএসসি।
তিনি বলেন, জরুরি মুহূর্তে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যন্ত্রপাতির অধিকতর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য প্রতি দু’বছর অন্তর অন্তর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ফায়ার এক্সারসাইজ দরকার হয়। এতে বিমানের সাথে সংশ্লিষ্টদের কাজের গতিশীলতা, দক্ষতা ও মনোযোগ বাড়বে এবং যেকোন দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জরুরি মুহূর্তে উদ্ধার তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যে সমন্বয় দরকার সেই সেতুবন্ধন এই মহড়ার মাধ্যমে স্থাপিত হচ্ছে। বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতার জন্য ত্বরিঃ পদক্ষেপ নিতে এধরণের মহড়া জরুরি। যথাযথভাবে মহড়া সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মো. হাফিজ আহমদ জানান, বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে মহড়ার জন্য আগে থেকে একটি বিমানের আকৃতি তৈরি করে রাখা ছিলো। সকাল ১১ টা ২৩ মিনিটে বিমানে আগুন দেয়া হয়। এর পরপরই শুরু হয় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা।
তিনি বলেন, অনকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, উদ্ধার তৎপরতা ও সক্ষমতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এই মহড়ার আয়োজন। আন্তর্জাতিক যে কোন বিমানবন্দরে প্রতি দু‘বছর অন্তর অন্তর এ ধরণের মহড়া করতে হয়।
মঙ্গলবারের মহড়ায় সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের ফায়ার বিগ্রেড ছাড়াও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দু’টি উদ্ধার টিম, সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল ও নগরীর অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতাল, সিভিল সার্জন, সিলেট মহানগর পুলিশ, জালালাবাদ সেনানিবাস, র‌্যাব-৯, বিজিবি সিলেট সেক্টরের কর্মকর্তাসহ একাধিক টিম অংশ নেয়।
বিমানের ৫০ যাত্রীর মধ্যে ৫ জনকে মৃত, ১০ জনকে গুরুতর আহত এবং অন্য ২৫ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার দেখানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের এ্যাম্বুলেন্সযোগে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। যাত্রী হিসেবে মহড়ায় সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
সিলেট মহানগর পুলিশ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যধি হাসপাতা, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল ও হাসপাতাল, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সিলেট ক্যাডেট কলেজ, বিজিবি সিলেট সেক্টর, সিভিল সার্জন সিলেট, জেলা প্রশাসক সিলেট, জালালাবাদ সেনানিবাস, এনএসআই, র‌্যাব-৯, আবহাওয়া অফিস সিলেট, আনসার ও ভিডিপি, বিডিএফএস এন্ড সিডি, ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিভিল এ্যাভিয়েশন, এপিবিএন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, পদ্ম অয়েল কোম্পানী, নভো এয়ার, ইউএস বাংলা এয়ালাইন্সসহ সিলেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংবাদ মাধ্যমে প্রতিনিধিগণ এই মহড়া পরিদর্শন করেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট