৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২৩
রমজানের শেষের দিকে এসে তাপদাহের ফলে গরমের তীব্রতায় অতিষ্ঠ সিলেট নগরজীবন। এর মধ্যে গরমের তীব্রতার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিড়ম্বনা। দিনে রাতে ঘন্টায় ঘন্টায় চলছে লোডশেডিং। রেহাই মিলছেনা সেহরি এবং ইফতারের সময়ও।
গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ের ফলে রমজানের শেষের দশকে রোজাদারদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। এজন্য গরমের কারণে হঠাৎ দেশব্যাপী বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি ও হাটহাজারী গ্রিডের ত্রুটিকে দায়ী করছেন সিলেটের সংশ্লিষ্টরা। আপাতত বিদ্যুতের উন্নতি নিয়ে নতুন কোন সুখবর নেই বলেও জানান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। তবে ঈদ উপলক্ষে অফিস আদালত বন্ধ হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশ্বাস বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের।
জানা গেছে, গেল সপ্তাহে ২ দিন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল অন্তত রমজানে সিলেটে বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকবে না। এজন্য রমজানের আগে থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সকল পদক্ষেপ ভেস্তে গেছে। এখন নগরীতে দিনের অর্ধেকের বেশি সময়ই বিদ্যুৎ মিলছেনা। শনিবারও ইফতার ও সেহরীর সময় নগরীর বিশাল এলাকাজুড়ে টানা এক ঘন্টা লোডশেডিং হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে রোববার দুপুর পর্যন্ত ৫/৭ বিদ্যুতের আসা যাওয়া অব্যাহত ছিল। রমজানের শেষ দশকে এসে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে সিলেট বিভাগের লাখো লাখো বিদ্যুৎ গ্রাহক মারাত্মক ভোগান্তিতে দিন পার করছেন।
নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, রোজা ও তীব্র গরমের মধ্যে দিনে অন্তত ৮-১০ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হতে হচ্ছে। কখনো কখনো বিদ্যুৎ আসতে সময় লাগছে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সীমাহিন গরমে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্ক ও শিশুরা। রমজানের মধ্যে গরমের উপর বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অনেকটা অসহায় নগরের মানুষ।
এদিকে রমজানের শেষের দিকে শুধু সিলেট নয়, গোটা দেশজুড়েই বিদ্যুৎ সঙ্কট দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের কর্মকর্তাবৃন্দ। তারা জানান, ঈদকে সামনে রাখে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখা এবং গরমের তীব্রতা বাড়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। এটা শুধু সিলেট নয়, গোটা বাংলাদেশের সমস্যা। আর সিলেটে বর্তমানের চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে সহসা মুক্তি মিলছেনা বলেও আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গরমের তীব্রতার কারণে সিলেটের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছেনা বিদ্যুৎ বরাদ্দ। ফলে লোডশেডিং দিয়েই ঘাটতি পূরণ হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যার পর সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৩০ মেগাওয়াট। সেখানে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৫০০ মেগাওয়াটের মতো। আবার দিনের বেলায় বিদ্যুৎ মিলেছে চাহিদার অর্ধেক। ফলে নগরীতে দিনের বেলায় ৬ থেকে ৭ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। শহরের বাইরে গ্রাম এলাকায় আরো বেশী লোডশেডিং করা হচ্ছে। ইফতারের সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই সময়েও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। ইফতারের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সিলেট বিভাগীয় অফিসের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির জানান, রমজানে সাধারণত সিলেট বিভাগে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা সর্বনিম্ন ৬৭০ মেগাওয়াটের মতো। রমজানে ইফতার ও সেহরির সময়সহ রাতের বেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশনা আছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে জাতীয়ভাবে হাটহাজারী গ্রিড যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব সারা দেশে পড়ছে।
তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে গোটা দেশব্যাপী গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকছে। এছাড়া তীব্র গরমের কারণে এসি সহ একাধিক বৈদ্যুতিক ফ্যান চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে গত কয়েকদিন থেকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েই চলেছে। একই সাথে বিদ্যুতের উৎপাদনেও ছন্দপতন ঘটছে। গত ২দিন থেকে জাতীয়ভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন কমছে। এই পরিস্থিতি আরো ২/৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ঈদ উপলক্ষে অফিস আদালত ছুটি হলে এবং হাটহাজারী গ্রিড সচল হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুল করিম বলেন, হঠাৎ করেই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। এখন দিনের বেলায় নগরীতে ৬ ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এরমধ্যে কোন এলাকায় ইফতারের সময়ও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। বরাদ্দ অনুযায়ী আমাদেরকে বিদ্যুৎ বন্টন করতে হয়।
তিনি বলেন, আমার বিউবো-১ এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় চাহিদা ছিল ৩০ মেগাওয়াট আর বরাদ্দ পেয়েছি ১২ মেগাওয়াট। বিকেলে ১৫ মেগাওয়াটের মধ্যে পেয়েছি ৭ মেগাওয়াট। চাহিদার অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ আসলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধিটা স্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তবে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D