সিলেটে দীর্ঘতর হচ্ছে বন্যা, নদীর পানি কখনো কমে, কখনো বাড়ে

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২২

সিলেটে দীর্ঘতর হচ্ছে বন্যা, নদীর পানি কখনো কমে, কখনো বাড়ে

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা কখন থামবে, কখন শেষ কবে, তা যেন কারোরই জানা নেই। নদনদীর পানি কখনো কমে, কখনো বাড়ে, আবার কখনো অপরিবর্তিত থাকে। দিনভর প্রখর রোদ থাকে আকাশে, রাতে বা সকালে হঠাৎ নামে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এতে হাওর-বাওর ও নদী-নালার পানির পরিমান প্রায় একই থাকে। মঙ্গলবারও সিলেটের দুই প্রধান নদী সুরমা-কুশিয়ারার পাঁচ পয়েন্টের পানি বিদসীমার উপরে প্রবাহিত হয়। এতে বন্যা আরো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। মানুষের প্রহর কাটছে অনিশ্চয়তা, শঙ্কা আর ভয়ে।

ঈদের আর মাত্র ৩ দিন বাকী। অথচ সিলেটের প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ ঈদের এই আনন্দঘন সময়ে লড়ছে পানির সাথে, জীবনের সাথে। সব জায়গায়ই বিরাজ করছে হাহাকার। কাজ নেই, কর্ম নেই। উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত ছাড়া প্রায় সব শ্রেনীর মানুষের এখন ভরসা বেসরকারী ত্রাণ কিংবা সরকারী সহায়তা।

স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, শহরকেন্দ্রীক গ্রাম কিংবা এলাকাগুলোতে মানুষ ত্রাণ সহায়তার নাগাল পাচ্ছে ঠিক। কিন্তু একেবারে অজোপাড়া গ্রামের অসহায় মানুষগুলো পর্যাপ্ত সহায়তার দেখাই পাচ্ছেনা। ফলে উপোষ করে, খেয়ে না খেয়ে এক একেকটা ভয়াল দিন পার করছেন এসব মানুষগুলো। বন্যায় এদের ঘরের সবকিছু ভেসে গেছে। চুর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে তাঁদের সাজানো স্বপ্ন।

বানভাসী লাখ লাখ মানুষের নেই কোন ঈদ ভাবনা। মঙ্গলবার সিলেটের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বানভাসি মানুষের চোখে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। কোথাও ঘর ধসে পড়েছে, আবার কোথাও ঘরের বেড়া নেই।

ভয়াল বন্যায় ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে শত শত গরু, ছাগল, হাস মুরগি। এসবের ওপর ভরসা করে এবার ঈদুল আজহা উদযাপনের চিন্তা ছিল বেশির ভাগ বানভাসি মানুষের। কিন্তু বন্যায় সবকিছু হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। কোনরকম বেঁচে আছেন আশ্রয়কেন্দ্রে আবার কেউবা আত্মীয়ের বাড়ীতে, আবার অনেকে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতেই।

এদিকে, সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে। বিশেষ করে বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ এলাকার অর্ধেকের বেশী গ্রাম এখনো পানির নিচে। এখনো ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ।

বন্যার ভয়াবহতা দেখে মঙ্গলবার পরিকল্পনামন্ত্রীও অক্ষেপ করে বলেছেন, গত ৩০ বছরের নির্মাণকৃত গ্রামীণ সড়ক শেষ হয়ে গেছে। নিজের ভিটায় যেতে পারছেন না হাজারো পরিবার। এসব মানুষদের ছোট ছোট বসতঘর নির্মাণ করে দিতে হবে।

মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখলাম। এরকম বন্যায় কিছুই থাকে না, এখানেও তাই হয়েছে।

সত্যিই তাই, সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যায় লাখ লাখ মানুষের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। সব শেষ হয়ে গেছে। কেবল কোনমতে বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে বেঁচে আছে এসব মানুষের প্রাণ!

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেটে এখনো দুই নদীর পাঁচ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, সিলেট থেকে পানি সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর হয়ে নামে। তবে সুনামগঞ্জে পানি বেশি থাকায় ধীরগতিতে নামছে।

এদিকে, সোমবার রাতে, মঙ্গলবার এবং বুধবার সকালে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এতে লাখো মানুষের মাঝে পানি বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দেয়। তবে গত তিন দিনের মতো মঙ্গলবারও ছিলো রৌদ্রজ্জ্বল দিন। এতে প্রচন্ড গরমের মাঝেও স্বস্তির হাওয়া বয়ে যায়।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট