করোনায় ব্রিটেনে এ পর্যন্ত ৮৬ বাংলাদেশীর মৃত্যু, শতাধিক আক্রান্ত

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২০

করোনায় ব্রিটেনে এ পর্যন্ত ৮৬ বাংলাদেশীর মৃত্যু, শতাধিক আক্রান্ত

ইব্রাহীম খলিল, লন্ডন থেকে : করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ব্রিটেনে রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬জন ব্রিটিশ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু তালিকায় বৃদ্ধ থেকে নিয়ে তরুণও রয়েছেন। রয়েছেন ডাক্তার, ব্যারিস্টার, রেস্টুরেন্ট মালিক, মসজিদের ইমাম এবং হেলথ প্রফেশনাল।
ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে পুরো ব্রিটেনে আলোচিত হয় ব্রিটিশ বাংলাদেশী চিকিৎসক ড. আব্দুল মাবুদ চৌধুরী ফয়সালের মৃত্যু। তিনি মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও ভাইরাস প্রতিরোধে এনএনইচএস এর সব ফ্রন্ট লাইন স্টাফদের জন্য পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছিলেন। প্রাণঘাতি এই করোনা ভাইরাসেই জীবন দিতে হলো তাঁকে।
এছাড়াও তাবলীগ জামাত ইউরোপের আমীর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মুকিত (ডুইসবারী), আইনজীবি ব্যারিস্টার মনির শেখ, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ভাই মনির উদ্দিন ও সিরাজ উদ্দিনের মৃত্যু, ২২ বছর বয়সী তরুণ শাহিদ মিয়া এবং সিলেট নগরীর আম্বরখানা মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতিব, বর্তমানে বার্মিংহামে ওয়ালসলের একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা মর্তুজা আহমদেরর মৃত্যু কমিউনিটিতে আলোচিত হয়। দাগ কেটেছে সবার মনে।
তবে ভ্ইারাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী অধিকাংশ মানুষের পূর্বে রোগ ছিলো। করো নিয়ন্ত্রনহীন ডায়বেটিস, হার্টের সমস্যা, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থাকায় তারা আক্রান্ত হয়েছেন বেশী । তাদের অনেকেরই বয়স ছিলো ষাটোর্ধ্ব। এ ধরনের রোগী এবং বয়স্ক মানুষরাই সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের গবেষণা অনুযায়ী, ব্রিটেনে অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের চেয়ে বাংলাদেশীদের মৃত্যু হার বা মৃত্যুঝুঁকি ৫ থেকে ৬ গুণ বেশী। গড় আয়ু অন্য এথনিক কমিউনিটির মানুষের চেয়ে অনেক কম। এর কারণ বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষের খাদ্যাভাস, কাজের ধরন এবং লাইফ স্টাইল অনেকে ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ কারণে অনেকেই ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, কোলেস্টোরেলসহ অনেক ধরনের রোগ নিয়ে নিয়ে বসবাস করছেন। যার কারণে এ ধরনের মানুষ সবচেয়ে বেশী করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ব্রিটেনের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। অসংখ্য মানুষ অসুস্থ অবস্থায় নিজেদের ঘরেই সেলফ আইসোলেশনে রয়েছেন। আবার অনেকেই করোনা আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়েছেন। কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও সাংবাদিক আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, ইউকে আওয়ামীলীগ নেতা আ স ম মিসবাহ, যুবকর্মী খালেদ আহমেদ শাহিন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের তাদের মধ্যে অন্যতম। সোশ্যাল মিডিয়া তাদের আক্রান্ত হওয়ার খবর রীতিমতো ভাইরাল হয়েছিলো।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট