মিত্র দেশগুলোর কাছে জরুরি সহায়তা চাইল সৌদি আরব

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

মিত্র দেশগুলোর কাছে জরুরি সহায়তা চাইল সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দীর্ঘমেয়াদী এই সংঘাতের ফলে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র নিরোধক ব্যবস্থার (ইন্টারসেপ্টর) মজুত আশঙ্কাজনক হারে ফুরিয়ে আসছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিয়াদ এখন ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের মতো মিত্র দেশগুলোর কাছে জরুরি বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্রমাগত হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যুহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রও এই মুহূর্তে নিজস্ব মজুত সংকটের কারণে রিয়াদের চাহিদামতো ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ছয় মাসের উত্তেজনায় ওয়াশিংটনের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টান পড়েছে। যদিও এই সংকট নিয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হুথিরা মুসলিম বিশ্বের পবিত্রতম শহর মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে। যদিও সৌদি বাহিনী সেই ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে এবং মক্কাকে তাদের নিরাপত্তার ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, ইয়েমেন সীমান্ত থেকে মক্কার দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার।

সংঘাতের প্রভাব কেবল আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই; ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলায় সৌদির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও এখন উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে চলমান অস্থিরতা এবং সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব বর্তমানে এক কঠিন সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে সামরিক ঘাঁটি ও সরকারি স্থাপনা রক্ষা, অন্যদিকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল তেল ক্ষেত্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গোয়েন্দা তথ্য ও পরিকল্পনা দিয়ে সহায়তা করলেও সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের অনাগ্রহ রিয়াদকে আরও চাপে ফেলেছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট