|
প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬
দুই পাশে সবুজ চায়ের বাগান, মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ছড়া। এ ছড়ার কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা বালুচরে ফুটেছে শরতের বার্তা নিয়ে আসা কাশফুল। ছড়ার পাশে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা এখন কাশফুলের শুভ্র চাদরে ছেয়ে গেছে।
কাশফুল দেখতে ও ফুলের সঙ্গে নিজেদের ছবি তুলতে নানা বয়সের মানুষ এখন ছুটে যাচ্ছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ সড়কের পাশের এই কাশফুলের বালুচরে। শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কের বেলতলী–সংলগ্ন ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাশে এই কাশফুলের বালুচরের অবস্থান। ভানুগাছে যাওয়ার রাস্তা ধরে খানিকটা সামনে এগোলেই মেলে কাশফুলের বালুচর। প্রতিবছর আগস্টের শেষের দিক থেকে অক্টোবরের প্রথম দিকে এ ফুল ফোটা শুরু হয়। তাই বছরের দুই মাস এখানে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।
শনিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাশফুলের বালুচরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন বয়সী লোকজন এখানে এসেছেন অনিন্দ্য সুন্দর এই কাশফুল দেখতে। কেউ কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন। কাশফুলের গাছগুলোর ভেতরে ঢুকে পড়ছেন অনেকেই। অনেকে আবার মুক্ত বাতাসে পুরো বালুচর ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মিসেস সুমাইয়া জামান বলেন, পরিবার নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীমঙ্গলে এসেছেন। এখানকার নানা জায়গা ঘুরে দেখার পর স্থানীয় ব্যক্তিদের মুখে কাশবনের কথা শুনে তিনি এসেছেন। চারদিকে সবুজের মধ্যে সাদা কাশবনে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালো লেগেছে। ঢাকার কাশবন আর এখানকার কাশবনের সৌন্দর্য ভিন্ন।
কাশফুল দেখতে আসা সালশ্রী আজিম বলেন, ‘জায়গাটি অনেক সুন্দর। এই প্রথম এখানে এসেছি। এখানে সময় কাটাতে খুবই ভালো লাগছে। এই কাশফুলগুলোর সঙ্গে ছবি তুললে ছবিগুলোও অনেক সুন্দর হয়।
দৈনন্দিন জীবনের কর্মব্যস্ততা থেকে ছুটি নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বেড়াতে আসেন। শরতের ঝকঝকে আকাশের নিচে হাওয়ায় দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলের বালুচর আগন্তুকদের বিনোদনের এক অন্যতম মাধ্যম। যাঁরা কর্মব্যস্ত শহরে খুঁজে বেড়ান একটু নীরবতা, তাঁরা প্রিয়জনকে নিয়ে কাশফুলের বালুচরে ঘুরে আসতে পারেন।
স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর আগস্টের শুরু কিংবা শেষের দিকে কাশফুলগুলো ফুটতে শুরু করে। সেপ্টেম্বর মাসে এসে সাদা কাশফুলে ছেয়ে যায় পুরো দুই কিলোমিটার এলাকা। সেপ্টেম্বরের শেষে কিংবা অক্টোবরের প্রথম দিকে ফুলগুলো ঝরে যায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এ কাশবনে মানুষের ভিড় লেগে যায়।
শ্রীমঙ্গল পর্যটনসেবা সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও গ্রিনলিফ গেস্ট হাউজের পরিচালক,এস কে দাশ সুমন জানান, শ্রীমঙ্গলে আসা পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের কাছে জায়গাটি প্রায় দুই মাসের মতো বেশ আর্কষণীয় থাকে। চায়ের রাজধানী হিসেবে শ্রীমঙ্গলের খ্যাতি দেশে–বিদেশে। এখানে চা–বাগানের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা অনেক জায়গা আছে। চার-পাঁচ বছর ধরে কাশফুলের বালুচরটি সবার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শ্রীমঙ্গলে আসা পর্যটকেরা এখানে আসেন প্রকৃতি দেখতেই। তাঁদের কাছে কাশবন ও কাশফুলের সৌন্দর্য বাড়তি মাত্রা যোগ করে। তবে এখানে বেড়াতে আসা সবাইকে কাশফুল না ছেঁড়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এ জায়গায় ময়লা–আবর্জনা ফেলবেন না। প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, তাহলে প্রকৃতিও আপনাকে ভালোবাসবে।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা বলেন, মানুষের অসচেতনতার কারণে অনেক জায়গা থেকেই কাশবন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই কাশবন রক্ষায় দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। তারা কাশফুল না ছিঁড়ে এবং কাশবনের ভেতরে না ঢুকে দূর থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানান।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D