সিলেটে শ্রমিক নেতা ময়নুলের বিরুদ্ধে হত্যায় মদদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬

সিলেটে শ্রমিক নেতা ময়নুলের বিরুদ্ধে হত্যায় মদদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত হওয়া মো. আব্দুল মুহিম সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ময়নুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে মদদ দান, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৩টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আব্দুল মুহিম এর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. এনাম হক।

আব্দুল মুহিম নিজেকে ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে বলেন, গত ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ সুরমার কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে বাসের হেলপার রিপন আহমদ ও চালক দেলওয়ার হোসেন নিহত হন। তাঁর অভিযোগ, এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ময়নুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক আলী আকবর রাজন, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী সিসি ফুটেজেও দৃশ্যমান। নিহতদের পরিবারের করা মামলায় ময়নুল নিজেও আসামি হয়েছেন বলে জানান তিনি।

মুহিমের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করেছে এবং আসামিদের পক্ষে অব্যাহতির সুপারিশ করানো হয়েছে, যদিও গত ১৮ আগস্ট আদালত সেই প্রতিবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর ময়নুল-রাজনসহ ১৬ জনকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মামলা থেকে বাদ না দিলে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মুহিম আরও অভিযোগ করেন, ময়নুল ইসলাম শ্রমিকদের শেয়ার কার্ডের প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যাংকে না রেখে আত্মসাৎ করেছেন এবং সংগঠনের ক্যাশ থেকে আরও ২ লাখ টাকা ফেরত দেননি। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁকে কৌশলে বহিষ্কার করে আলী আকবর রাজনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া তাঁর নিজের গাড়ি চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, একসময় চাকরিচ্যুত চালক ময়নুল ইসলাম বর্তমানে দুটি বাস ও একটি প্রাডো গাড়ির মালিক এবং শ্রমিকদের অর্থে জমি কিনেছেন, অথচ রুট পারমিট ও গাড়ির কাগজপত্র না থাকা সত্তে¡ও প্রশাসন নীরব।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মুহিম নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের পক্ষে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি ও নিজের হারানো পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, প্রভাবশালী হলেও কাউকে যেন আইনের ঊর্ধ্বে রাখা না হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চালক দেলওয়ার হোসেনের বাবা আজির উদ্দিন ও বাসের হেলপার রিপন আহমদের বাবা ছাবলু মিয়া প্রমুখ।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট