সিলেটে ট্রিপল মার্ডার : ঘাতক বাবুল মিয়াকে জেল হাজতে প্রেরণ

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার : ঘাতক বাবুল মিয়াকে জেল হাজতে প্রেরণ

সিলেট নগরীর রায়নগরে একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত বাবুল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,  সিলেট মহানগরীর রায়নগরের মিতালি ১১১নম্বর বাসায় প্রবীণ দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত বাবুল মিয়াকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আগামীকাল শুক্রবার নিহত দম্পতির ছেলে দেশে আসার পর মামলা দায়েরের কথা রয়েছে।

তিনি জানান, এর আগের দিন বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান দিয়ে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনি থেকে বাবুল মিয়া (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি  মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ) ছেলে। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কথা স্বীকার করেন বাবুল। তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকেই এই ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা ছোরাটিতে শুকনো রক্তের দাগ রয়েছেও বলে জানায় পুলিশ।

মূলত গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল স্বীকার করেছে যে, বুধবার সকালে মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় সে প্রবেশ করে। সেখানে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করে। তাকে বাঁচাতে প্রবীণ দম্পতি আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাদেরকেও নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বাবুল।

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। তাঁর চার সন্তানের মধ্যে তিন মেয়ে ও এক ছেলে প্রবাসে থাকেন। আজ দুপুরে যুক্তরাজ্য থেকে দুই মেয়ে সিলেটে পৌঁছান এবং ওসমানী হাসপাতাল থেকে মা-বাবার মরদেহ গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার শুক্রবার দেশে পৌঁছানোর পর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বাড়িটিতে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মহানগরীর রায়নগর এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান- বিয়ানীবাজার আখাখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানায়, গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় বুধবার বাবুল মিয়া ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে চান। কিন্তু তাহমিনা সেই সম্পর্কে অমত প্রকাশ করলে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করে। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।

পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সে রায়নগর এলাকায় নিজের বাসায় ফিরে আসে। পুলিশের গঠিত বিশেষ টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

প্রসঙ্গত, মো. আব্দুস সাত্তারের গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার আখাখাজনা এলাকায়। রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়াও মিতালী আবাসিক এলাকায় তাঁর পাশাপাশি তিনতলা দুটি বাসা রয়েছে। তার মধ্যে ১১১ নম্বরের ৩য় তলাবিশিষ্ট নিজস্ব বাসায় বসবাস করতেন। উপরের তলা ও নিচতলায় ভাড়াটিয়ারা থাকতেন এবং তিনি দ্বিতীয় তলায় থাকেন। মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারর সাথে বাসায় বসবাস করতেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও তাদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা। দুই বিল্ডিংয়ের বাকি ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকতেন। আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। আব্দুস সাত্তার বয়স্ক লোক হওয়ায় তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্তও বলে জানা যায়।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট