শাবিপ্রবিতে র‌্যাগিংয়ের শিকার চার শিক্ষার্থী, অভিযুক্তের তালিকায় ৬জন

প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬

শাবিপ্রবিতে র‌্যাগিংয়ের শিকার চার শিক্ষার্থী, অভিযুক্তের তালিকায় ৬জন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চার নবীন শিক্ষার্থীকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে র‌্যাগিংয়ের নামে অশালীন ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অভিনয় করানোর অভিযোগ উঠেছে ছয় সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হল সংলগ্ন বড়গুল রিপন ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, একজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর জন্মদিন উপলক্ষে একসঙ্গে বসার কথা বলে ছয়জন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাঁদের ডেকে নিয়ে র‌্যাগ দেন। প্রথমে চারজনকে বিভিন্ন ধরনের নাচ করতে বাধ্য করা হয়। এ সময় কেউ ভুল করে হেসে ফেললে তাঁকে পা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। পরে তাঁদের দিয়ে দশ রকমের কান্নার অভিনয় করানো হয়।

তিনি বলেন, একজনকে গামছার মাধ্যমে মেয়ে এবং আরেকজনকে ছেলে সাজিয়ে প্রপোজ করার অভিনয় করানো হয়। এরপর বিভিন্ন অশালীন ও প্রাপ্তবয়স্কদের কবিতা জোরে জোরে পড়তে বলা হয়। একজনকে আপত্তিকর শব্দ বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ করতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে একটি চেয়ারের সামনে দাঁড় করিয়ে সেটিকে মেয়ে কল্পনা করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কবিতার তালে অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়। আমি তখন খুবই ভেঙে পড়েছিলাম, কান্না চলে আসছিল। তবুও তারা বারবার চাপ দিচ্ছিল অভিনয় করতে। ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি, এখনো সেই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারিনি।

অভিযোগে যাঁদের নাম উঠে এসেছে তাঁরা হলেন, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের গোলজার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের সোলাইমান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের সাব্বির, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তীব্র এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের মারুফ ও আবু রায়হান।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের নাসির, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের মো. গোলাম মোর্শেদ ও শাহাদাত হোসেন সাগর এবং বাংলা বিভাগের জিয়াউর রহমান। তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সোলাইমান কবিরকে কল দেওয়া হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু, যে অভিযোগগুলো আসছে সেগুলো কিছু হয়েছে। তবে, আমি এগুলো করিনি। এগুলো করেছেন আইপি বিভাগের সাব্বির।

এ বিষয়ে জানতে সাব্বিরকে কল দেওয়া হলে তিনিও ফোন কেটে দেন।

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী মারুফ বলেন, আমরা নিজেদের ঘটনা নিজেরা সমাধান করে নিয়েছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বেলাল হোসেন শিকদার বলেন, এ বিষয়ে আজকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। বিষয়টি নিয়ে বসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট