সাগরের বুকে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২৬

সাগরের বুকে মৃত্যুর মিছিল

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান


দেশে দেশে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা আর নিরাপত্তার অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছে লাখো মানুষ। চলতি বছরে ইউরোপের উদ্দেশে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টাকালে প্রায় আড়াই হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে।

যুদ্ধাক্রান্ত সিরিয়া ও সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের দেশগুলোর নাগরিকরদের পাশাপাশি বাংলাদেশিরাও ইউরোপ যেতে এই বিপদসঙ্কুল পথ বেছে নিচ্ছে। গত সপ্তাহে লিবিয়ার যোওয়ারা এলাকা দিয়ে ইটালি যাওয়ার সময় দুইটি নৌকা ডুবে গেলে ২৪ বাংলাদেশিসহ প্রায় ২০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে আরো ৫৪ বাংলাদেশিকে। পরদিন ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে। লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশির পাশাপাশি পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে বাংলাদেশ থেকেও অনেকে এই পথে যাওয়ার চেষ্টা করছে ইউরোপে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও উন্নত জীবনের আশায় প্রবাসীরা দেশে না ফিরে ইউরোপে যেতে চাইছেন। এছাড়া বৈধ পথে বিদেশে কাজের সুযোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে পড়ায় অনেকেই অবৈধভাবে যেতে চাইছেন।

সাম্প্রতিককালে অভিবাসন সমস্যা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ লোক ইউরোপের কয়েকটি দেশে আশ্রয় নিয়েছে। হঠাৎ অভিবাসীদের এই ঢেউ সামাল দিতে জরুরিভাবে আলোচনায় বসছেন ইউরোপের নেতারাও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সোনারগাঁও গ্রামে এখন মাতম চলছে। মনু মিয়া ও ফজল মিয়ার বাড়িতে নাওয়া-খাওয়া নেই। এ দু’পরিবারের দুই তরুণ ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে মারা গেছে। দারিদ্র্য জয় করতে বছর তিনেক আগে তারা লিবিয়ায় যায়। সেখানে তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পেত না। এ অবস্থায় সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা নৌকা দিয়ে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেয়। পথেই তারা পানিতে ডুবে মারা যায়। আমরা যারা সবসময় সরকারের সমালোচনা করি মানবপাচারের ক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে। কিন্তু এর পাশাপাশি যদি আন্তর্জাতিক পরিম-লের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব যে, এই ক্ষেত্রে যে অরাষ্ট্রীয় কর্মকটি কাজ করছে তারা ক্ষেত্রবিশেষে রাষ্ট্রীয় কর্মকের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। আর সেজন্যই আজ এ বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সীমারেখা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বেশ দাপটের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, কী উন্নয়নশীল, কী উন্নত দেশ এক কথায় প্রায় সর্বত্রই। লিবিয়ায় নৌযানডুবিতে ভাগ্যাহতদের গন্তব্য ছিল ইউরোপের দেশ ইতালি, যেখানে অনেক আগে থেকে অনেক অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। কেবল ইতালির কথাই বা বলছি কেন, উন্নত দেশের কোথায় নেই এই অবৈধ অভিবাসী সমস্যা? এই সমস্যার গোড়ায় দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে, এদের অনেকে অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে গেলেও এর একটি বড় সংখ্যা পাচারের শিকার। সম্প্রতি নানা দুর্ঘটনার কারণে এই পাচারের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে মূলত যে কারণে তা হলো এই পাচার কি তবে আগের তুলনায় বেড়েছে নাকি অবৈধ অভিবাসী রোধে কোনো কোনো দেশের তৎপরতা বেড়েছে? হয়তো দুটোই ঠিক কিংবা কোনোটাই সঠিক নয়। কারণ এখন এই মুহূর্তে আমরা নিজেরা আমাদের নানা কর্মের মধ্য দিয়ে এই পাচারকে উৎসাহী করছি কিনা, সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন।

মানবপাচার এবং আমাদের জাতীয় সংকটবাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের সবচেয়ে বড় গন্তব্যস্থল মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে সম্প্রতি অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য আসতে শুরু করেছে। মালয়েশিয়ায় বেশ কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া এবং এসব গণকবরে অধিকাংশ ভাগ্যাহত বাংলাদেশির নি®প্রাণ দেহ মিলেছে এমন সংবাদ যেমন আমাদের মধ্যে একদিকে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করে, অপরদিকে যখন এমনটাও শোনা যায় যে, থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিসহ অনেকেই সরাসরি এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তখন রাষ্ট্রব্যবস্থা জনগণের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কতটুকু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এই বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবার ক্ষেত্র তৈরি করে। একই অবস্থা পাচারের উৎসস্থলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অভিযোগ রয়েছে যে, বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান বিধি-বিধান থাকা সত্ত্বেও এখানে রক্ষকই অনেক ক্ষেত্রে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে অর্থাৎ সবকিছু জানা এবং বোঝা সত্ত্বেও বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পর্যাপ্ত তৎপরতার অভাবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের কার্যক্রম অবাধে চলে আসছে। এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে আর সেটি হচ্ছে ক্রমবর্ধমান হারে যারা যেভাবে মানবপাচার হচ্ছে অর্থাৎ যারা স্বেচ্ছায় পাচারকারী নামক প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সহায়-সম্বল সব হারাচ্ছেন, তারাই বা কেন অনেকটা জেনে বুঝে ঝুঁকি নিয়ে এমন ফাঁদে পা দিচ্ছেন? এখানে কি বলা যাবে শুধুই অভাব তাদের প্ররোচিত করছে নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ। ঘটনা বিশ্লেষণ করতে হলে খুব একটা মাথা ঘামানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি না। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের মানদ-ে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এ কথা যারা বিশ্বাস করেন না তারাও নিশ্চয়ই অন্তত এই সত্যটি স্বীকার করবেন যে, আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা আগের তুলনায় ঢের ভালো, শুধু ভালোই নয়, প্রতিবেশী দেশের তুলনায়ও আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরেও আমরা পাচারের শিকার হওয়ার প্রবণতা রোধ করতে পারছি না। অথচ যখন এমন সময় ছিল বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে খ্যাত ছিল বহির্বিশ্বে সেই সময়েও পাচারের প্রবণতা বর্তমানের মতো এমন ভয়াবহ ছিল না। এই দিকটি নিয়ে নিশ্চয়ই সচেতন পাঠকমাত্র আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করবেন। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে সঙ্গত কারণেই আমাদের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা এবং সামাজিক অবক্ষয় এর পেছনে সবচেয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা এবং সামাজিক অবক্ষয় কীভাবে এখানে ভূমিকা পালন করছে বিষয়টি কিছুটা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। বাংলাদেশের মানবপাচারের সবচেয়ে নিরাপদ এবং পরিচিত রুট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম পরিচিত নাম। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষকে জড় করে এ অঞ্চল দিয়ে পাচার করা হয়ে থাকে। কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে মানবপাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার আরেকটি কারণ হলো ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র উপকূলের প্রায় পুরোটাই অরক্ষিত, সর্বক্ষণিক নজরদারির কোনো ব্যবস্থা নেই, পুলিশ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তেমন কোনো তৎপরতা নেই, আর এর ফলে সেখানকার ৬০টিরও অধিক পয়েন্ট দিয়ে নির্বিঘেœ প্রতিনিয়ত চলে আসছে এ ধরনের অবৈধ কর্মকা-।

প্রশ্ন হচ্ছে যে, তথ্যগুলো আজ আমরা সবাই জানি তা সত্ত্বেও এই অবস্থার প্রতিকারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার যুক্তি কি কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যার অপ্রতুলতার অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়া যায়, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ। যদি পুলিশ জানে, সাধারণ জনগণ জানে, তার পরও এসব পাচারের রুটগুল নিরাপদ থাকার নেপথ্যে কি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দায়ী নয়? এসব এলাকার স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অন্তত কোনোভাবেই এই অপকর্মের দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারেন না, সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও এদের অনেকের প্রতি সহযোগিতার দায়ে নিজেদের দায় এড়াতে পারেন না। এখন আসা যাক সামাজিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গে। সমাজের সর্বত্রই এখন চলছে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর তা হচ্ছে কে, কত দ্রুত উপায়ে কত বেশি অর্থের মালিক হতে পারবে। সম্মিলিত কর্মোদ্যোগ যেখানে সামাজিক উন্নয়নকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারে, সেখানে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে এর ভীষণ অভাব পরিলক্ষিত হয়। এর বিপরীতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তি উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে কেবল নিজেদের স্বার্থকে আবর্তিত করে। সমাজ কী পাচ্ছে বা পাচ্ছে না ভেবে নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে অন্ধের মতো সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে যখন অন্ধকারের পথে যাত্রা শুরু হয়, সমাজ তখন নিজের কাছে এবং সমাজের কাছে নিজে ভীষণ অপরিচিত সত্তায় পরিণত হয় অথচ বিষয়টি অন্যরকম হতে পারত। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি লোক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈধ বা অবৈধভাবে বসবাস করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন পেশাজীবী, দক্ষ, অদক্ষ এবং সেমিদক্ষ শ্রমিক যারা বিদেশে তাদের অবস্থানের সুবাদে তাদের প্রেরিত অর্থ দেশে পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে নীরবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আমরা কেবল যদি এই মানবপাচারের মূল কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক চক্রের ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী তৎপরতাকেই দায়ী করে থাকি তাহলে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই অবস্থার প্রতিরোধে বিদ্যমান বিধি-ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য করা হয়। সঙ্গত কারণেই এই অভ্যন্তরীণ বিধি-ব্যবস্থা বলতে আমি আমাদের দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থা এবং এই ব্যবস্থা প্রতিপালনের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতাকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করার পক্ষ অবলম্বন করব। এর অর্থ হচ্ছে, আমাদের দেশে মানবপাচার প্রতিরোধে কী ধরনের প্রচলিত ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে তা যথেষ্ট কিনা এবং এর প্রয়োগ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, সেটা যাচাই করা অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশ সরকারের দাবি অনুযায়ী ২০১২ সালে মানবপাচার প্রতিরোধে যে আইন প্রণয়ন করা হয় তা বৈশ্বিক মানদ-ের বিবেচনায় করা হয়েছে। উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, মানবপাচারসংক্রান্ত সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনকল্পে এ আইন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এ আইনে মানবপাচারের শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ-ের বিধান রাখা হলেও বাস্তবে বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছা অনেক কঠিন। কারণ বিদ্যমান আইনটি যারা প্রয়োগ করবেন তারা স্বয়ং এই আইন সম্পর্কে কতটুকু অবগত রয়েছেন এ নিয়ে সন্দেহের অনেক অবকাশ রয়েছে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ করা হয়ে থাকে যে স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ কেউ এ ধরনের ঘৃণ্য কাজে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। এই অবস্থায় এর প্রায়োগিক দিকের সমস্যা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করা অনেক দরকার।

সেই সঙ্গে যে সব অভিযোগ রয়েছে তা সত্য হলে ধরে নিতে হবে এর সঙ্গে এক ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়ে গেছে। সুতরাং কেবল আইন করার চেয়েও অনেক বেশি ভাবতে হবে এই আইনগুলো আসলে প্রয়োগযোগ্য কিনা। আমাদের দেশের বিদ্যমান অনেক আইনের প্রয়োগের বিষয়টি মাথায় না নিয়েই কেবল নতুন নতুন আইন করা রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ব্যতীত আর কিছুই নয়। যদি তাই না হতো তবে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের অনিশ্চিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রার লাগাম টানা সম্ভব হতো। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এই আইন হওয়ার পর মানবপাচার প্রতিরোধকল্পে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান কর্মোদ্যোগ চোখে পড়েনি আর সেজন্যই সম্ভবত সমস্যা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। যে কথা না বললেই নয়, তা হলো আগে নিজেদের দুর্বলতা পরিহার করার পদক্ষেপ নেয়া জরুরি এবং পরবর্তী ধাপে এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দেশই এই সমস্যায় কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেদিক বিবেচনায় সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। জাতীয় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার কার্যকর পদক্ষেপ এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথকে প্রশস্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা প্রতিষ্ঠা করাও গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে রাষ্ট্রীয় বাজেটে প্রতি বছর দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে মানবপাচারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার রোধ করে জনশক্তি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোষাগার সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। সর্বোপরি আশঙ্কাজনকভাবে মানবপাচার কেবল জনজীবনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই সংকট তৈরি করছে না; বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তিকে প্রতিনিয়ত ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারের দিকে। বিষয়টি নিয়ে কেবল সরকারের নয়, সব মহলের সচেতনতা জরুরি।


লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট, পাঠানপাড়া (খানবাড়ি), কদমতলী, সদর-সিলেট।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট