সিলেটের ডিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২৬

সিলেটের ডিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের দোকান কোঠার চুক্তি বাতিলের নোটিশের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থা অমান্য করায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) আবেদনকারী দোকান মালিকদের দায়ের করা কনটেমপ্ট পিটিশন (নং ১১০/২০২৬) শুনানি শেষে হাইকোর্ট ডিভিশনের দ্বৈত বেঞ্চের মাননীয় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং মাননীয় বিচারপতি মোঃ আসিফ হাসান এই রুল জারি করেন।

যাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়েছে তারা হলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারোয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) সৈয়দা পারভীন এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) কিশোর কুমার পাল। গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ অমান্য করার দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের দোকান কোঠার চুক্তি বাতিলের নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দোকান মালিকগণ হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ৩৫২৯/২০২৬) দায়ের করেন। গত ১২ মার্চ মাননীয় বিচারপতি খিজির আহমদ চৌধুরী ও মাননীয় বিচারপতি জিয়াউল হকের বেঞ্চ উক্ত রিটের শুনানি শেষে দুই মাসের জন্য দোকানের পজিশন ও পজেশন সংক্রান্ত বিষয়ে ‘স্থিতাবস্থা’ (ঝঃধঃঁং ছঁড়) জারি করেন।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, আদালতের এই স্থিতাবস্থার আদেশ বহাল থাকাবস্থায় গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাতের বেলা জেলা প্রশাসক প্রশাসনের মাধ্যমে দোকানগুলো তালাবদ্ধ ও সিলগালা করে দেন। এটি স্পষ্ট আদালত অবমাননা দাবি করে গত ১ এপ্রিল আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভুক্তভোগী দোকান মালিকরা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম কাফি।

আবেদনকারীগণের পক্ষে মো. ইনামুল কবির চৌধুরী জানান, তারা আদালতের কাছে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের আবেদন জানিয়েছেন। একই সাথে আদালতের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী দোকানের পজিশন পুনরায় মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।

আজকের এই রুল জারির মাধ্যমে সিলেটের কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ন্যায়বিচারের আশা তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।