সিলেটে বাড়ছে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব, ৫ দিনে আক্রান্ত ৩৯

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

সিলেটে বাড়ছে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব, ৫ দিনে আক্রান্ত ৩৯

সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ দিনে নতুন করে ৩৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনও ২২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে তিনজন শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু রোগীদের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ চিকিৎসক প্যানেল গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তদের চিকিৎসা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ ও সরঞ্জাম বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে চুনারুঘাট, বাহুবল, মাধবপুর এবং ছাতক উপজেলার বাসিন্দাদের সংখ্যা বেশি।

হাসপাতালের এক আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা জানান, হাম মোকাবিলায় হাসপাতাল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে সিলেটে হামের নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নমুনা পাঠানো হচ্ছে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে, যেখানে দেশে হামের পরীক্ষার প্রধান ল্যাব রয়েছে।

অন্যদিকে, একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় প্রথম হাম শনাক্ত হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর বস্তি এলাকাতেও হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় হাম রোগ আবার বাড়ছে। সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। তবে গত কয়েক বছরে জাতীয় পর্যায়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি।

সর্বশেষ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে, যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। আগামী জুন মাসে নতুন করে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবার ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট