সিলেটে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই করলেন বিএনপি নেতা

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২৬

সিলেটে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই করলেন বিএনপি নেতা

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনতাই করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন মেঘারগাঁও রহিমার বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন কনস্টেবল আহত হন।

গ্রেফতার আলী হোসেন উপজেলার মেঘারগাঁও গ্রামের মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে। তিনি একটি মামলায় আদালতের রায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলী হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানার একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে তাকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে থানার দিকে রওনা দেয় পুলিশ। এ সময় পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান উপজেলা কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য একই গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের বাধা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাগরসহ তিন কনস্টেবল আহত হন।

খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত বিএনপি নেতা তাজুল ইসলামের মেয়ে খাদিজা ও সুমাইয়া, নতুন মেঘারগাঁও গ্রামের হাবিবুল্লাহর মেয়ে হাজেরা এবং আমির মিয়ার ছেলে মানিক মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর চাপের মুখে আড়াই ঘণ্টা পর একই এলাকা থেকে হাতকড়াসহ আলী হোসেন পুনরায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান জানান, অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করার পর ফেরার পথে উচ্ছৃঙ্খল জনতা পথরোধ করে তাকে ছিনিয়ে নেয়। তবে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মার্চ শাহ আরফিন টিলা এলাকায় অভিযানের সময় হাতকড়াসহ পালিয়ে যায় জালিয়ারপার পাথরখেকো কালা মিয়া। তাকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মা রুপজান বিবিকে (৭৯) থানায় ধরে নিয়ে আসে পুলিশ। সে সময় হাতকড়া ফেরত দেওয়ার বিনিময়েও ছাড়া পাননি বৃদ্ধা রুপজান। তবে কালা মিয়াকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট