৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২২
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে ২৮ লাখ টাকার ফ্লো মিটার চুরি হওয়ার পর থেকে নগরজুড়ে আলোচনায় এখন সিসিকের নিরাপত্তা। তবে এসব নিয়ে মাথা ব্যথা নেই সিসিক কর্তাদের। জিডি করেই যেন দায় শেষ তাদের। ঘটনা জানাজানির পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সাত কার্যদিবসের সেই কমিটি তিন সপ্তাহেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি। এরই মধ্যে রিপোর্ট জমাদানের সময় বাড়ানো হয়েছে এক দফা।
রিপোর্ট প্রদানে বিলম্বের কারণ হিসেবে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান খান বলেন, একটি প্রশিক্ষণে থাকার কারণে আসলে রিপোর্ট দেয়া হয়নি। এখন কাজ প্রায় শেষের পথে, আশা করছি খুব শিগগিরই রিপোর্ট জমা দেয়া যাবে। তবে এ রকম ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও চুরির ঘটনায় শুধু জিডি করেই দায় সেরেছে সিসিকের প্রকৌশলীরা।
সিসিকের বেশ কিছু সূত্র থেকে জানা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে তিনটি গাড়ি গায়েবের ঘটনায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর জিডি করেন সিসিকের পরিবহন শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) জাবেরুল ইসলাম (জিডি নম্বর ১৯৪৯)। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গাড়ি তিনটি ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ হয়। গাড়িগুলোর মধ্যে ছিল একটি মিনি ট্রাক (সিলেট ঘ-০২-০০৪৮), একটি পিকআপ ও একটি অ্যাম্বুলেন্স। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে রিপোর্ট চাওয়া হয় ৭ দিনের মধ্যে। তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সিসিকের তৎকালীন সচিব বদরুল হক (আহ্বায়ক), নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রুহুল আলম (সদস্য সচিব) এবং সদস্য হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আলী আকবর।
এ ব্যাপারে জানতে সেই তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও বর্তমানে সিসিকের বিদ্যুৎ শাখার প্রকৌশলী রুহুল আলমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সেগুলো আসলে চুরি হয়নি। যেখানে থাকার কথা সেখানে ছিল না। পরবর্তীতে এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছিল। আর গাড়িগুলো পাওয়া যায় ময়লার ভাগাড়ে। পরবর্তীতে মামলা নিষ্পত্তি করে তা নিলামে বিক্রি করা হয়।
অপরদিকে সম্প্রতি চুরি হওয়া প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৫৩৫টি ফ্লো মিটার নিয়ে আলোচনা হলেও সিসিকের কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এর সঙ্গে খোয়া গেছে আরো অনেক মালামাল। তবে কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে একদমই নিশ্চুপ। জানা যায়, নগরীর যতরপুর এলাকায় এমনই কিছু মালামাল লুকিয়ে রাখা হয়েছে। খোয়া যাওয়া পানির মিটারগুলোর সঙ্গে চলতি বছরের মার্চে এসব মালামাল তোপখানাস্থ অস্থায়ী ভান্ডার থেকে কুইটুকস্থ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে স্থানান্তর করার কথা। তবে সিসিকের পানি শাখার এসব পানির পাইপ ভাণ্ডারে পৌঁছানোর পরিবর্তে ট্রাকে করে নিয়ে রাখা হয় যতরপুরের একটি বস্তিতে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে স্তূপ করে রাখা হয়েছে সিসিকের পানি শাখার কয়েক লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চালন পাইপ। স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বললে তারা কেউ বলতে পারেননি এসব মালামাল কার। তবে নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক সিসিকের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে চুরি যাওয়া পানির মিটারের সঙ্গেই এসব মালামালও তোপখানাস্থ অস্থায়ী ভাণ্ডার হতে উত্তোলন করা হয়েছিল।
সিসিকের পানির পাইপ লুকিয়ে রাখার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর ও সিসিকের দুই কর্মকর্তাও ছিলেন। এই প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এসব পাইপ সিসিকের বলে দাবি করলেও সিসিকের পানি শাখার সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক তপাদার এসব পানির পাইপ তাদের কিনা এই নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন।
এনামুল হক তপাদার ঘটনাস্থলে দেয়া তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন, আমি পানি শাখায় ১৪/১৫ বছর কাজ করলেও কখনো ভাণ্ডারের মালামালের দায়িত্বে ছিলাম না। এমনকি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টেও আমি কাজ করিনি। তাই এসব মালামাল আমাদের কিনা তা শনাক্ত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা স্টোর কিপাররাই ভালো বলতে পারবেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা মালামালের ভিডিও এবং ছবি দেখিয়ে সিসিকের স্টোরকিপার
(সাময়িক বরখাস্তকৃত) আব্দুল্লাহ আল সোহাগের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব মালামাল সিসিকের বলে স্বীকার করে বলেন চুরি যাওয়া মিটারসহ অন্তত তিন ট্রাক মালামাল সেদিন তোপখানার ভাণ্ডার থেকে কুশিঘাটে স্থানান্তর করা হয়। যার দায়িত্বে সোহাগ ছাড়াও ছিলেন অপর বরখাস্তকৃত স্টোরকিপার মাসুম। আর এসব মালামাল ওঠানামার জন্য শ্রমিক সরবরাহ করেছিলেন সিসিকের পানি শাখার অস্থায়ী কর্মচারী সাত্তার আহমেদ।
সোহাগ এবং মাসুমের ভাষ্য, তারা স্থানান্তরকৃত মালামালের তালিকা করে তা সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের কাছে বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে তা আতিকুর রহমানের দায়িত্বেই থাকে। সেসব মালামাল চুরি গেল কি করে তার কিছুই জানেন না বলে দাবি সোহাগের।
এ বিষয়ে সিসিক মেয়র আরিফুল হক বলেন, স্থানীয় এক ব্যাক্তি পাইপগুলো তার বলে দাবি করেছেন এবং এর স্বপক্ষে কিছু কাপজপত্র দেখিয়েছেন। তবে আমরা এখনো পাইপগুলো জব্দ করে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই এর একটি সমাধান আসবে। তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে খুবই কঠোর অবস্থানে আছি, চুরির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
সূত্র : ভোরের কাগজ

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D