জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২১

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন।বছরগুলোর পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েই চলেছে।২০১৮ সালে ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে দুই কলেজ শিক্ষার্থী বাসের ধাক্কায় মারা যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছিল দেশ। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ সালে ২ হাজার ৫৬৬টি সড়ক দূর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হয়। পরের বছর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫১৩ জনে দাঁড়ায়। ২০১৮ সালে আগের বছরের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১২২টি বেড়ে যায়।২০১৮ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও দেড় হাজার বেড়ে যায়।করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালে সড়কে গাড়ি চলাচল সীমিত থাকার মধ্যে দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমলেও তা ছিল ৩ হাজার ৯১৮ জন।সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি ও চালকের অনুপাতের ব্যবধান বেড়ে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ছিল ৪৫ লাখ ২৩ হাজার ৬০০টি।ফলে অনেক গাড়ি লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক চালাচ্ছে বলে তা দুর্ঘটনা ঘটানোয় ভূমিকা রাখছে । তার মধ্যে বাসের সংখ্যা ৫১ হাজার ৬৬৮টি।এসব গাড়ির বিপরীতে চালকের লাইসেন্স প্রায় ২৪ লাখ।দুর্ঘটনার পর মামলা না হওয়ার ঘটনাও যেমন আছে, পাশাপাশি মামলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমঝোতা হয়ে যায়। আবার আদালত ক্ষতিপূরণের রায় দিলেও তা আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে।সড়ক দুর্ঘটনার পর শুরুতেই সমঝোতা হওয়ায় অধিকাংশই আদালত পর্যন্ত মামলা গড়ায় না। আদালত পর্যন্ত এলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাদীপক্ষ হতাশ হয়ে যান, মুখ ফিরিয়ে নেন। ফলে দুর্ঘটনার মামলা খুব কমই এগোয়।এছাড়াও থানা পুলিশের মামলা পরিচালনার জন্য অর্থ দাবী,বিআরটিএর অসাধুকর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে অছল গাড়িকে রাস্তায় চলাচলে অনুমতিও নিরাপদ সড়কের অন্তরায়।সরকারের আন্তরিকতা ও সুসংগঠিত কর্ম পরিকল্পনার অভাবও পরিলক্ষিত হয়।
মো মনির হোসেন
প্রকৌশলী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা
monirece.siu@gmail.com

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট