জগন্নাথপুরে নারীকে ৬ টুকরো করে হত্যা, ৩ আসামি ফের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২

জগন্নাথপুরে নারীকে ৬ টুকরো করে হত্যা, ৩ আসামি ফের রিমান্ডে

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি ফার্মেসি থেকে এক নারীর ছয় টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিন আসামিকে ফের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (২৭ ফেব্রয়ারী) দুপুরে সুনামগঞ্জ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান প্রত্যেককে আরও তিন দিন করে রিমান্ডে দেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক বদরুল আলম তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড শেষে সিআইডি আরও ৮ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড দেয়।’

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিক্যাল হল থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর খন্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

৩৮ বছরের জ্যোৎস্না জগন্নাথপুর পৌরসভার নয়াবাজার কলোনিতে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। তার স্বামী সুরুক মিয়া সৌদি আরব প্রবাসী।

নিহতের ভাই হেলাল মিয়া অভিকে প্রধান আসামি করে ওই দিন রাতেই জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এরপর পুলিশ ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ অভি, মুদি দোকানদার অনজিৎ গোপ ও পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসীত গোপকে গ্রেপ্তার করে।

জানা যায, ২০১৩ সাল থেকে ওই নারী পৌর শহরের নিজ মালিকানাধীন বাসায় দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন। পরিবারের সব সদস্যদের ওষুধ ‘অভি মেডিক্যাল হল’ নামের ফার্মেসি থেকে কেনার সুবাদে জিতেশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন ধরে ওই নারী বেশ কিছু গোপনীয় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ সমস্যার সমাধানে সুপরামর্শের জন্য গত ১৬ ফেব্রয়ারী বুধবার বিকালে জিতেশের ফার্মেসিতে গেলে ভেতরে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে তাকে বসিয়ে রাখা হয়। কাস্টমারের ভিড় কমলে সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক ওষুধ দেওয়া হবে বলে সময় ক্ষেপণ করা হয়। পরে আসামি জিতেশচন্দ্র গোপ তার বন্ধু মুদি মালের দোকানদার অনজিৎ গোপ (৩৩) ও পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপকে (৩৬) নিয়ে ওই নারীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি ওই নারী স্বজনদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে গলায় ওড়না প্যাচিয়ে এবং বিশ্রাম কক্ষে থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে হত্যা করা হয়।

পরে লাশ গুমেরও পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা। রাজধানী ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণকান্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে অভিযুক্তরা।