২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২২
উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ চেয়ে অনশনে বসা সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী তাদের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার বিকাল ৩টা থেকে উপাচার্যের ভবনের সামনে অনশনে বসা এই ২৪ শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত তাদের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস, সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান, সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক দিলারা রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ শতাধিক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনশনে ভাঙাতে আসেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানান উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ ছাড়া তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
শিক্ষকদের কাছে তারা জানতে চান- তাদের এই এক দফা দাবির সঙ্গে শিক্ষকরা একমত কিনা? এ সময় শিক্ষকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা বলেন, যদি আপনারা আমাদের এক দফা দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন তাহলে আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলব। এছাড়া আপনাদের সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি নই।
শিক্ষার্থীদের অনঢ় অবস্থানে শিক্ষকেরা ঘণ্টাধিক সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন।
রাত সাড়ে এগারোটার সময় শিক্ষার্থীদের অনশনস্থলে আসা শাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে তারা বারবার আসবেন।
এসময় অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে একাত্মতা জানাতে আসা কয়েকশ শিক্ষার্থী উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে এনে প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি আদায়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা।
এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা। এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরতদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা আড়াইটার দিকে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বের হলে উপাচার্যের পিছু নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় উপাচার্য ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রোববার বিকেলে এসে সহিংসতায় রূপ নেয় আন্দোলন।
এদিকে পুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীরা আবারও জড়ো হলে পরে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D