আমি স্কুলে গেলে বাবা-মা না খেয়ে মরবে : শিশু ফাহিম

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২১

আমি স্কুলে গেলে বাবা-মা না খেয়ে মরবে : শিশু ফাহিম

ফারুক রাজ (সাতক্ষীরা) : প্রখর রোদের তাপের মাঝে রাস্তায় ভ্যান নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় ১২ বছরের শিশু ফাহিম৷ বাবা মায়ের ওষুধ কেনা ও সংসার চালানোর মতো উপার্জনক্ষম আর কেউ নেই তার পরিবারে। রোজগারের জন্য কপালের ঘাম ঝরাচ্ছে এই শিশু৷

দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য হার্নিয়া রোগে ভুগছেন ফাহিমের বাবা সাত্তার মোল্লা৷ মা নার্গিস বেগম আগে রাস্তায় ও দিনমজুরি দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা ও সংসার চালালেও এখন অসুস্থতার ভারে নুয়ে পড়েছেন তিনিও৷ এখন তারই চিকিৎসায় প্রতিদিন ওষুধ লাগে ১৪০ টাকার৷

বাবা ও মায়ের উভয়ের ওষুধ আরেকদিকে সংসারের ডাল ভাত জোগাড় করতে মোটর ভ্যান চালিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় শিশু ফাহিমের৷ ঘুম থেকে উঠে উদ্দেশ্য একটাই কখন ৩৫০ টাকা তার পকেটে রোজগার হবে৷ তা দিয়ে ১ কেজি চাউল সবজি, বাবা মায়ের ওষুধ ও আয়ের সম্বল ভ্যানর লোনের টাকা পরিশোধ করতে হবে৷

শিশু ফাহিম সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের সুভঙ্কার কাটি শেখপাড়া বেত্রাবতী নদীর পাড় এলাকার সাত্তার মোল্লার ছেলে৷ মা নার্গিস বেগম ওই এলাকার মৃত শেখ আব্দুল মান্নান ময়নার মেয়ে৷ ফাহিম হেলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র৷

ফাহিমের বাবা সাত্তার মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগে এখন একেবারেই কাজের অক্ষম হয়ে গেছি৷ সংসারে এখন আয়ের একমাত্র উৎস শিশু ফাহিম৷ ছেলে ভ্যান চালিয়ে যে অর্থ রোজগার করে তাতেই পরিবারের দুজনের চিকিৎসা ও সংসারের প্রতিদিনের খরচ চলে যায়৷ অর্থ রোজগার করতে ফাহিমকে রাস্তায় ছাড়তে না চাইলেও যেন নিয়তির কাছে আজ আমি বন্দি৷

মা নার্গিস বেগম বলেন, ফাহিম যদি এক সপ্তাহ কাজ না করে তাহলে না খেয়ে মারা যাবো৷ মেম্বার চেয়ারম্যান কে বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সহযোগিতা তাদের কাছ থেকে পায়নি বরং বিভিন্ন ধরনের ভ্রুক্ষেপ ও হয়রানির শিকার হয়েছি৷

ভিজিডির চাল সহ কোন ধরনের সরকারি সেবার অর্থ পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি৷ এমনকি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ল্যাটিনও নাই এই পরিবারে৷

স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সকলে নতুন পোশাক পরে কিন্তু ফাহিমের একটুকরো নতুন কাপড় কিনে দিতে পারি না তার চাহিদাও মেটাতে পারি না৷ স্বামী সাত্তার মোল্লার আগে স্ত্রীর দুই ছেলেকে ছোট থেকে মানুষ করলেও এখন তারা দেখেনা৷

শিশু ফাহিমের লেখাপড়া, স্বামীর চিকিৎসা করাতে প্রশাসনের নিকট সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি৷

স্থানীয় প্রতিবেশীরা বলেন, পরিবারটি এখন এতটাই অসহায় যে ওই শিশু ফাহিম যদি এক সপ্তাহ অসুস্থ থাকে তাহলে ওই পরিবারের তিনজন ব্যক্তি না খেয়ে থাকবে৷ এজন্য আমরা এলাকাবাসীরা স্থানীয় প্রশাসন সরকারের নিকট আকুল আবেদন করছি এই পরিবারের পাশে সকলকে দাড়াতে৷ তাহলে এই পরিবারটি আগের মত স্বাভাবিক হয়ে ফিরে আসবে ফাহিম এর বাবা চিকিৎসা সেবা পাবে মা সুস্থ হবে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন পাবে তাহলে এই পরিবারটি ভালো ভাবেই চলতে পারবে৷

শিশু ফাহিম বলেন, আমি স্কুলে পড়তে চাই বন্ধুদের সাথে খেলতে চাই কিন্তু বাবা মায়ের অসুস্থতার কারণে পারিনা৷ আমি স্কুলে পড়তে গেলে বাবা-মা না খেয়ে মরবে। মাসে একদিনও মাছ গোস্ত খেতে পারি না। আমার বাবা মা অসুস্থ সকলের কাছে সহযোগিতা চাচ্ছি যাতে আমি আমার বাবা মায়ের চিকিৎসা ও আমার লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারি৷


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট