৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৯
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। সারা দেশ থেকেই দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন রাজধানীর কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এ সময় ‘বিবাদ’ ভুলে গিয়ে নিজেদের ‘ঐক্যকে’ দলের স্বার্থে জোরদারের কামনা করেন তাঁরা।
এর আগে সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই রাষ্ট্রপতির দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর বায়তুল মোকাররমে তাঁর আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আজ সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই জানাজায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন সংসদ সচিবালয় মসজিদের ইমাম আবু রায়হান।
জানাজা শেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এরশাদের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মরহুমের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সংসদনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপরই এরশাদের মরদেহ নিয়ে আসা হয় কাকরাইলের দলীয় কার্যালয়ে। সেখানেও সকাল থেকেই শত শত নেতাকর্মী জড়ো হন দলীয় চেয়ারম্যানকে শ্রদ্ধা জানাতে। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা চোখের জলে প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
এরশাদকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা থেকে এসেছেন নুরুল ইসলাম। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের স্যার আমাদের অভিভাবক ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের পিতার মতো। তাঁকে হারিয়ে আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছি।’
‘আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় পার্টির প্রতিটি নেতাকর্মী স্যারের শেষ নির্দেশগুলো মেনে চলে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আর আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে পরপারে স্যারের আত্মা শান্তি পাবে,’ যোগ করেন নুরুল ইসলাম।
নোয়াখালীর জাতীয় পার্টির কর্মী শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের স্যার সব সময় জাতীয় পার্টিকে সন্তানের মতো লালন করেছেন। জাতীয় পার্টি ও এর প্রতিটি কর্মী ছিল তাঁর সন্তান। আজ তিনি আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন।’
জাপার এই কর্মী আরো বলেন, ‘স্যার, আমাদের সব সময় ঐকবদ্ধ রেখেছেন। আমরা আশা করি, আগামী দিনেও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা পল্লীবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নেবে।’
এর আগে সকাল ১০টার কিছু পরে সাবেক রাষ্ট্রপতির মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘর থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে নিয়ে আসা হয়।
গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান এইচ এম এরশাদ। গতকালই বাদ জোহর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়।
বিগত শতাব্দীর আশির দশকে সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে টানা আট বছর রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন এরশাদ। নব্বইয়ের দশকের শেষে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদায় নেন এই সামরিক শাসক। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি নানা রোগে ভুগছিলেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মারা যাওয়ার পর পরই দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা দলের পক্ষ থেকে সিএমএইচে গণমাধ্যমের কাছে এরশাদের ব্যাপারে পরবর্তী কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। এ সময় সেখানে জাতীয় পার্টির ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নিয়ে যাওয়া হবে বায়তুল মোকাররমে। বাদ আসর সেখানে তাঁর আরো একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ফের সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হবে।
রংপুর নেওয়া হবে মঙ্গলবার
বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে আজ এরশাদের মরদেহ রংপুর নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে এরশাদের মরদেহ রংপুর নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ জোহর রংপুর জেলা স্কুলের মাঠে এরশাদের শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানাজার স্থান পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান মহাসচিব।
মঙ্গলবারই এরশাদের মরদেহ ঢাকায় ফিরিয়ে এনে সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি আরো জানান, পরদিন অর্থাৎ বুধবার রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে এরশাদের কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে।
বর্ণময় জীবন
বর্ণময় চরিত্রের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রামের পূর্ব বাংলার রেজিমেন্টাল ডিপোর উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৬৬ সালে কোয়েটায় মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে উন্নত কোর্স সম্পন্ন করেন। শিয়ালকোটে একটি ব্রিগেডের সঙ্গে সেবা করার পর তাঁকে ১৯৬৯ সালে তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ড এবং ১৯৭১ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ড দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ শেষে এরশাদ পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। পরে তাঁকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল পদে নিযুক্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালে তাঁকে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের ফলে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ১৯৯১ সালে এরশাদ গ্রেপ্তার হন। ছয় বছর কারাভোগের পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন।
কারাগারে থেকে এরশাদ ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে নিজ জেলা রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন।
গণঅভ্যুত্থানে পতনের পরও এরশাদের দল জাতীয় পার্টি জাতীয় সংসদে উল্লেখযোগ্য আসনে বিজয়ী হয়। কমবেশি করে একই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল পরবর্তী সময়ের সাধারণ নির্বাচনেও। ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এরপর দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের দল বিরোধী দলের ভূমিকায় উঠে আসে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D