সংসদ নয়, রাজপথ গরম চান মান্না

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৯

সংসদ নয়, রাজপথ গরম চান মান্না

দলীয় বহু হিসাব-নিকাশের পর শেষ সময়ে শপথ নিয়ে কথার লড়াইয়ে সংসদ গরম করে চলেছেন বিএনপির এমপিরা। প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে তাদের এমপিদের বক্তব্য। তবে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এমনটা চান না। তিনি চান বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনে রাজপথ গরম হোক।

শুক্রবার (২৮ জুন) বিকালে সুপ্রিম কোর্টে নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মান্না বলেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কথার লড়াইয়ের আগে রাজপথের লড়াই নিশ্চিত করুন। সংসদে লড়াই কোনো লড়াই নয়। রাজপথে লড়তে সংগঠিত হতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক জানান, ঐক্য গড়তে তার দল শুরু থেকে কাজ করছে। তারা এখনো ঐক্য প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের চিন্তায় ভুল ছিল না। আমরা যাদের সঙ্গে সম্পর্ক করে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, তারা মনে মনে আগেই তাদের জায়গায় পৌঁছেছে। এবার নতুন করে ভাবতে হবে।

নতুন বাজেটকে (২০১৯-২০) মান্না গরিব মারার বাজেট বলে সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে তিনি বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে সবাই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দেশে যে নির্বাচন হয়েছে, তারপর তার ধারণা ছিল ১ জানুয়ারি থেকে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়বে। কিন্তু কেউ রাস্তায় নামেনি। ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব কেউই নামেননি। তিনি নিজেও নামেননি বলে জানান।

সুজন সভাপতি বলেন, পরিবর্তন চাইলে রাস্তায় নামতে হবে। গণ–আন্দোলন ছাড়া এর পরিবর্তন হবে না। গণ–আন্দোলন করতে হলে যে নেতৃত্ব দরকার, সেটাকে সংগঠিত শক্তিশালী উপযুক্ত নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম বলেন, এবারের সংসদ নির্বাচনের পরে জনগণের কাছে তারা কোনো সঠিক বার্তা দিতে পারেননি। তিনি ছাড়াও নাগরিক ঐক্যের জেলা পর্যায়ের দুজন নেতা তাঁদের বক্তৃতায়ও ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

শীর্ষ ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা এবং সাংসদদের সম্পদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানান গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদ। বিরোধীদের সংসদে কথা বলতে গেলে আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার। বক্তব্য দেন- গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির নেতা আকবর খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের জাহেদুর রহমান প্রমুখ।